‘আবার সাগরপথে যাত্রা করবে হাজারো মানুষ’

S M Ashraful Azom
সাগরপথে যাত্রা
সাগর পথে আবারো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে যাচ্ছে। জাতিসংঘের জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) আশঙ্কা করছে, এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমের শেষে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে অভিবাসনের আশায় দেশ ছাড়বে তারা। এই সাগরপথে গত তিন বছরে অনিয়মিত অভিবাসন প্রত্যাশীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। সাগরে ও থাইল্যান্ড, মালয়েশীয় সীমান্তে জীবন গেছে অসংখ্য মানুষের। চলতি বছরেই প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এই ভীতিকর যাত্রায়।
 
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান গার্ডিয়ানকে বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমের পর অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষের যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাগর পথে বিদেশ যাওয়ার একই রকম হিড়িক পড়তে পারে। তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩১ হাজার মানুষ বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর দিয়ে অভিবাসনের চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সালের ওই সময়ের চেয়ে এই সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান না করলে একই অবস্থা এবারও দেখা যেতে পারে।
 
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অভিবাসীদের অনেকে প্রাথমিকভাবে চার হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর পাচারকারীদের চাপের মুখে লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয় তাদের পরিবার। অনেক সময় এসব অভিবাসীর জায়গা হয় নির্জন দ্বীপ, জঙ্গলের ক্যাম্পে। চলতি বছরের মে থেকে জুনে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এক শর বেশি গণকবরের সন্ধান মেলে। এ খবর প্রকাশের পর দুই দেশের কর্তৃপক্ষ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করলে সাগরের বুকে আটকা পড়ে প্রায় আট হাজার মানুষ। পরে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়। ইতিমধ্যে তাদের অনেকে নিজ দেশে ফিরেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, এসব নৌকা হলো ‘ভাসমান কফিন’। এটিকে আঞ্চলিক চ্যালেঞ্চ উল্লেখ করে আঞ্চলিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top