বগুড়ার গাবতলীতে মামলা ছাড়াই মোখলেছার
রহমান নামের এক ব্যক্তিকে আটকের পর লাথি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের
বিরুদ্ধে। এঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশকে বিক্ষুদ্ধ জনগণ আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ
করে রাখে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহত মোখলেছার রহমান (৫৫) গাবতলী থানার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের দড়িপাড়া
গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে। এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের
সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ।
পরে
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং গাবতলী মডেল থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক
দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিযুক্ত দুই
পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে
বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিলে জনতা শান্ত হয়।
স্থানীয়রা
জানান, নিহত মোখলেছার রহমানের ছোট ভাই আতিয়ার রহমান তার জমি থেকে বাঁশ
কাটার ঘটনায় তার ভাইয়ের বিরুদ্ধ থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে
গাবতলী থানার এএসআই আব্দুস সবুর ও কনস্টেবল আব্দুর রহমান বৃহস্পতিবার
দুপুরে দড়িপাড়া গ্রামে যান। এসময় মোখলেছার রহমান বাড়িতে না থাকায় পুলিশ
স্থানীয় গোলাবাড়ি বাজারে তাকে খুঁজতে যায়। সেখানকার লোকজন পুলিশকে জানান
যে, মোখলেছার রহমান পার্শ্ববর্তী মড়িয়া গ্রামে কবিরাজী চিকিত্সা করতে
গেছেন। পুলিশ মড়িয়া গ্রামে যাওয়ার পথে দুপুর ২টার দিকে ছয় মাইলনামক স্থানে
মোখলেছার রহমানকে আটক করে। এরপর মটরসাইকেলে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা
করে। এসময় মোখলেছার রহমান তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ জানতে চাইলে এএসআই আব্দুস
সবুর তার চুল ধরে কিল ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে মোখলেছার ধস্তাধস্তি
করলে আব্দুস সবুর তাকে লাথি দেন। এতে মাটিতে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মোখলেছার
রহমান মারা যান। এদৃশ্য দেখে গ্রামের লোকজন দুই পুলিশকে আটক রাখে।
খবর
পেয়ে গাবতলী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে লাশ এবং আটকে রাখা দুই পুলিশকে
থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে জনগণ বাধা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে
পড়লে হাজার-হাজার নারী পুরুষ পুলিশ দলকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

