ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার দুুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সামনেই বিবদমান দু’গ্রুপ পরস্পরের উপর চড়াও হলেও পুলিশ ছিল নিরব। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অনির্দিষ্টকালের জন্য তিনটি হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। তবে হল তিনটি বন্ধ ঘোষণার ৪ ঘণ্টার মাথাতেই স্থানীয় এমপি জেবুন্নেছা আফরোজের হস্তক্ষেপে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আল-ইমরানকে সভাপতি ও মো. তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সভাপতি প্রার্থী অনুপ সরকারের অনুসারীরা কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুর দুইটার দিকে উভয়পক্ষ ক্যাম্পাসে মিছিল বের করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ক্যাম্পাসে গেলেও তারা বিবদমান দু’গ্রুপকে নিষ্ক্রিয় করতে ব্যর্থ হন। যে কারণে ফের সংঘর্ষের আশংকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ হল বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত দেন। তবে চার ঘণ্টা পরই এই ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয়। ছাত্রলীগের বিবদমান দু’গ্রুপের সংঘাতের খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। তিনি কলেজ অধ্যক্ষ ভাস্কর সাহাকে নিয়ে ক্যাম্পাস পরিদর্শন শেষে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনটি হল বন্ধের যে নির্দেশ দুপুরে দেয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন, মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তিনি ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। এ পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ করে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ ভাস্কর সাহা জানান, উভয়পক্ষ এখন শান্ত রয়েছে। কলেজে পর্যাপ্ত পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। এ অবস্থাতে কলেজ বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে রাতে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা নগরীর সোহেল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
পাথরঘাটায় উত্তেজনা
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা :বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পাথরঘাটা উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনটির অভ্যন্তরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত দুদিনে ছাত্রলীগের মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাথরঘাটা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ছাত্রলীগের একাংশ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তাদের শঙ্কা, উপজেলা জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এরকম তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের এ প্রতিবাদ। এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হককে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে। ছাত্রলীগে বিএনপির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা প্রতিবাদ মিছিল ও আন্দোলন করছি।
এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এনামুল হক জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আইন বিষয়ক পদে তার নাম থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা গুজব। ওই কমিটির এনামুল হক আমি নই। স্থানীয় রাজনীতিতে ঈর্ষাকাতর একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।

