প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে ছয় জনের ছবি শনাক্ত ছাড়া তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। দুই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বলার মতো তদন্তে কোন অগ্রগতি হয়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিজিতের বই প্রকাশ, ব্যক্তিগত শত্রুতাসহ বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। তবে এখনো কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।
এদিকে, শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত তারেক রহিমের হাতে দ্বিতীয় দফা অপারেশন করা হয়েছে। সাড়ে ৬ ঘণ্টা অপারেশন শেষে সফল হয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে চিকিত্সকরা অপারেশন করেন। এ সময় নয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারেক রহিম পোস্ট অপরাটিভ কক্ষে ছিলেন।
তারেকের চিকিত্সায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান নিউরো সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এহসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সফল অপারেশন করতে পেরেছি। আশা করি উনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে আপাতত তাকে অবজারবেশনে রাখা হয়েছে।’ তবে তার বাম হাত অক্ষত রাখা যাবে কিনা সে বিষয়েও কিছু জানাতে পারেননি এই চিকিত্সক।
চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, শুদ্ধস্বরের মালিক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলের কানে এখনো রক্ত জমাট রয়েছে। কিন্তু তার মাথা ও গলার আঘাত পুরোপুরি সারার আগে চিকিত্?সকরা অন্য কিছু করতে পারছেন না। এ অবস্থায় কিছু করতে গেলে রোগীর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
একই হামলায় আহত রণদীপম বসুর অবস্থা আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। আগামী সপ্তাহে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক খাজা আবদুল গফুর।
গত ৩১ অক্টোবর বিকালে শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল ও ব্লগার তারেক রহিম, রণদীপম এই তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা।

