তুরস্ক যুদ্ধবিমান ভূ-পাতিত করার পরদিন রাশিয়া সিরিয়ায় বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বুধবার মন্ত্রণালয়ের টুইটার ফিডে বলেছেন, সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় ঊপকূলে লাটাকিয়ার কাছে হেমিম বিমান ঘাঁটিতে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করছে তার দেশ। খবর: সিএনএন।
শোইগুর বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে।
গতকাল সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ২৫০ কিলোমিটার বা ১৫৫ মাইলের মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সিরিয়ায় যে কোনো লক্ষ্যবস্তুকে এটি ধ্বংস করবে। কারণ, তুরস্ক সীমান্তের দূরত্ব ৩০ মাইলেরও কম।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বুধবার রুশ টেলিভিশনকে বলেছেন, মঙ্গলবার তুরস্কের তাদের বিমান ভূ-পাতিত করার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত উস্কানি মনে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সিরিয়া সীমান্তে রাশিয়ার একটি বোমারু বিমান ভূপাতিত করে তুরস্ক বাহিনী। তুরস্কের দাবি, আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে কয়েক দফা সতর্ক করার পর বিমানে গুলি চালানো হয়। কিন্তু ভূপাতিত বিমানের ক্যাপ্টেন কনস্ট্যানটিন মারাখতিন বুধবার বলেছেন, তুরস্কের কাছ থেকে কোনো সতর্ক বার্তা তারা পাননি।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, রুশ যুদ্ধবিমান তুরস্কের আকাশ সীমায় ঢুকেছে, যা তার দেশের সার্বভৌমত্বের লংঘন। তিনি বলেন, যে এলাকা দিয়ে রুশ বিমান উড়ছিল সেখানে ‘কোনো দায়েশ (আইএস) নেই।”
এদিকে, বিমান ভূ-পাতিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এরদোয়ানকে ফোন করে ‘তুরস্কের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর সমর্থনের’ কথা জানিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক যোগাযোগ বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সের্গেই রুদোস্কি বলেছেন, অচিরেই সামরিক যোগাযোগ বন্ধ করা হবে। রুশ সরকারের পক্ষ থেকে বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সিরিয়া অভিযানে রুশ বিমান বাহিনী তুরস্কের আকাশসীমার কাছ দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়িয়েই যাবে।

