ভারতে চলমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করায় দেশজুড়ে আমির খানের বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়। ফেসবুকে এক পোস্টে এসব সমালোচনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, তিনি তার দেশকে ভালোবাসেন এবং এই জন্য তার কারো অনুমতি বা অনুমোদন প্রয়োজন।
নিজের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্বেগ ব্যক্ত করার পর সরকারের তোপের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। তিনি বলেছিলেন, দেশের অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত কি না, তা নিয়েও স্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
এর পরই বলিউডের অভিনেতা-শিল্পীদের একাংশ আমির খানের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন, তাতে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারাও। ভারতের মানুষই যে তাঁকে আমির খান বানিয়েছেন, মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে সে কথাও। মুম্বাইয়ে আমির খানের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু সেনা’। শুধু তাই নয়, আজ তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলাও হয়েছে। আমিরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে কানপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জনৈক আইনজীবী মনোজ কুমার দীক্ষিত।
আর সহ্য করতে না পেরে আমির ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে সব ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথমেই বলবো আমি বা আমার স্ত্রী কিরন, কারোরই দেশ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। আমরা কখনো এমনটি ভাবিনি এবং ভবিষ্যতেও কখনো এমন ভাববো না। যারা এর অন্যথা বলবে, হয় তারা আমার সাক্ষাতকারটি দেখেনি অথবা আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। ভারত আমার দেশ। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং এখানে জন্মগ্রহণ করায় আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। এবং এখানেই আমি থাকবো।
এরপরও সাক্ষাতকারে যা বলেছেন সেটা বিশ্বাস করেই বলেছেন আমির। তিনি বলেন, যারা আমাকে ভারতীয় জাতীয়তা বিরোধী বলছেন তাদের বলবো, আমি ভারতীয় হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি এবং এর জন্য আমার কারো অনুমতি বা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। আমার হৃদয়ের কথা বলায় যারা আমার বিরুদ্ধে অশ্লীল সব অভিযোগ এনেছেন তারা শুধু আমার যুক্তিটা প্রমাণ করেছেন।
দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আমাদের এই সুন্দর অনন্য দেশটির বহুত্ববাদিতাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। তিনি তার পোস্টটি শেষ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রার্থনা (চিত্ত যেথা ভয় শূন্য , উচ্চ যেথা শির...) কবিতা দিয়ে।

