জলবায়ু সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

S M Ashraful Azom
0

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলনে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানোর ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একমত হয়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের সম্মেলনগুলো সফল না হলেও এই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি সর্বসম্মত চুক্তি হতে যাচ্ছে। এই চুক্তি থেকে সুফল পেতে আমাদের সচেতনতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
 
প্যারিস জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের আলাদা কোনো অবস্থান ছিল না। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোটে আছে। সে হিসাবে সমন্বিত অবস্থান ছিল বাংলাদেশের। আর  জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো দেশের একক সমস্যা নয়। পৃথিবীর সকল দেশই এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুতরাং সব দেশকে মিলিতভাবেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বাংলাদেশের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। আমরা বলেছি, বাংলাদেশ কারো জন্য বসে থাকেনি। নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে ভালো কাজ করার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার পেয়েছেন।
 
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা এখন বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এটি একদিনে হয়নি। বাংলাদেশ নগণ্য দূষণ করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিটিগেশনের চাইতে এডাপটেশনের ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। জলবায়ু চুক্তি একটি কঠিন এবং জটিল বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ এবং গ্রুপের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থের কারণে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া কঠিন ছিল। ভারত এবং চীন এক্ষেত্রে ফ্যাক্টর ছিল। কিন্তু ওই দুটি দেশের সাথেও বাংলাদেশের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরও জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করায় ফ্রান্স সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
 
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্যারিস সম্মেলন নিয়ে আশা-নিরাশার দোলাচল থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা চুক্তি হওয়ায় সকলেই খুশি। প্যারিস চুক্তিকে ভারসাম্যমূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো একটি বিশেষ দেশকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্য এই সম্মেলন ছিল না। এডাপটেশনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি জলবায়ু তহবিল থেকে ঋণের পরিবর্তে অনুদান দেয়ার বিষয়টি চুক্তিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ চুক্তির বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে বলেন, এটি একটি আইনগত বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি। এতে তাপমাত্রা সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা রাখাসহ দীর্ঘমেয়াদি প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, অভিযোজন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি জানান।
 
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top