মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বিজয় উত্সব

S M Ashraful Azom
0

আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও আলোচনার মধ্য দিয়ে বিজয় উত্সব শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুুঘরে। সেগুনবাগিচার জাদুঘর প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় উত্সব’ শিরোনামে এ উত্সবের উদ্বোধন হয়।
 
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের আয়োজন। এরপর ‘ইম্পর্টেন্স অব দ্য ন্যাশনাল ট্রায়ালস্ অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ইন বাংলাদেশ : এ লিগেল রেসপন্স টু ক্রিটিকস্’ শিরোনামে ভাষণ দেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এম রফিকুল ইসলাম। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ধ্রুপদ কলাকেন্দ্রের শিল্পীরা, দলীয় আবৃত্তিতে ছিলেন স্বরচিত্র আবৃত্তি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্রের বাকশিল্পীরা, দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় ঢাকা কমার্স কলেজ ও মানিকনগর মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
 
সারওয়ার আলী বলেন, চলতি বছর থেকে দুইটি পারস্পরিক ধারা বাংলাদেশে বিদ্যমান। একটি ধারা দেশি-বিদেশি সকল চাপের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করছে। যার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। আরেকটি ধারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করছে। এ দুই ধারার মধ্য থেকে মুক্তিযুদ্ধের ধারার বাংলাদেশ পুনরায় জেগে উঠবে।
 
এম রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ব তিমুর ও কম্বোডিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য শুরু হয়েছিল। কিন্তু অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সেই বিচারপ্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজস্ব শক্তিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে। এ বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে বৈধ।
 
এ আয়োজন চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিনই বিকেল চারটা থেকে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হবে একাত্তরের বীর শহীদদের। সেই সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর থেকে মিরপুরের জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠে চলবে তিন দিনের অনুষ্ঠানমালা।
 
শুরু হলো দেশব্যাপী ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উত্সব ২০১৫’
 
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এবং ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গতকাল শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উত্সব ২০১৫’। ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প সংস্কৃতি’ স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া এ উত্সব শেষ হবে ২৪ ডিসেম্বর। গতকাল সন্ধ্যা ৬ টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ উত্সবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। উত্সবের উদ্বোধনী সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, মসিহউদ্দিন শাকের এবং মোরশেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ। পক্ষকালব্যাপী এ উত্সবে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন এবং সকল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একযোগে একই ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উদ্বোধনী দিনে দেখানো হয় তারেক মাসুদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’। আজ ১১ ডিসেম্বর দেখানো হবে এ্যাডাম দৌলার ‘বৈষম্য’ (সকাল ১০টা), আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’ (বিকেল ৪টা), জহির রায়হানের ‘কাচের দেয়াল’ (সন্ধ্যা ৬টা), আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর প্রদর্শিত হবে মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলীর ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ (বিকেল ৪টা), প্রসূন রহমানের ‘সুতপার ঠিকানা’ (সন্ধ্যা ৬টা)।
 
রবিবার থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ‘বিজয় উত্সব’
 
‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করতে যাচ্ছে আট দিনব্যাপি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘বিজয় উত্সব ২০১৫’ শিরোনামে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে স্থানীয়ভাবে আয়োজন করবে এই বিজয় দিবস উদ্যাপনের অনুষ্ঠান। এবারের বিজয় উত্সবের স্লোগান ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথে, জঙ্গিবাদকে দাঁড়াও রুখে’।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top