
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মাল্টিক্লায়েন্ট ভূকম্প জরিপের জন্য আগামী সপ্তাহেই দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা। দেশের সমুদ্রাঞ্চলে অগভীর অংশের পশ্চিমভাগে এবং সম্পূর্ণ গভীর সমুদ্রের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য এ জরিপ পরিচালিত হবে।
গতকাল বুধবার সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বিষয়ে এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পেট্রোবাংলায় অনুষ্ঠিত ঐ সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমদ জানান, বঙ্গোপসাগরে মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক (ভূকম্প) জরিপ পরিচালনায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যেই এ দরপত্র আহ্বান করা হবে। যোগ্য দরপ্রস্তাবকারী কোম্পানি বা কনসোর্টিয়ামকে জরিপের কাজ দেয়া হবে।
সভায় উপস্থিত অপর এক কর্মকর্তা জানান, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত ও মিয়ানমার নিজ নিজ সীমানায় জরিপ চালিয়ে তেল-গ্যাস মজুদের সন্ধান পেয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়ও তেল ও গ্যাসসহ বিপুল খনিজ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সভাসূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে গ্যাস পাওয়া গেলে তা উত্তোলনের কাজে জড়িত কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নেবে সরকার। গতকালের সভায় এ ক্রয়মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতি এক হাজার ঘনফুট গ্যাস ৮ মার্কিন ডলারে কেনা হবে। যদিও আগে এটি সাড়ে ছয় ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বড় আকারে ভূকম্প জরিপ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ জন্য গত ৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২৯ মার্চ পর্যন্ত পাঁচটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপত্র মূল্যায়ন করে নরওয়ের কোম্পানি টিজিএস এবং ফ্রান্সের স্ক্লামবার’র কনসোর্টিয়ামকে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করেছিল সংশ্লিষ্ট কমিটি। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে ঐ কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর না করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। এখন আবার পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলেও অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরুতে দেড় থেকে দুই বছর পিছিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।