
বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে বাংলাদেশ সরকারকে তাগিদ দিয়েছে ব্রিটেন। মিসরের শার্ম আল শেখ থেকে উড়ে যাওয়া একটি রুশ বিমান সিনাইয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ব্রিটেনের পরিবহন দপ্তর বাংলাদেশসহ বিশ্বের সবকটি দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে এই তাগিদ দিয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেছেন। বলা হচ্ছে, বিমানের ভেতরে রাখা একটি বোমার বিস্ফোরণে ওই রুশ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, যাতে ২২৪ জন নিহত হয়েছে। খবর বিবিসি’র
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের একটি দল ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পরিদর্শন করেন। এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা বাংলাদেশকে কিছু সুপারিশও করেন। বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এয়ারপোর্টগুলোতে নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা সেটাই তারা খতিয়ে দেখছেন। তারা যাত্রী ও মালবাহী বিমানগুলোর ফ্লাইটের নিরাপত্তার ব্যাপারেও জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানটি যে এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে যায় ওই বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেদেশের।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরে লোকজনের যাওয়া আসা, বিস্ফোরক চিহ্নিত করার ব্যবস্থা ও বিমানে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তার প্রক্রিয়ার মতো বিষয়ে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। মেনন বলেন, নিরাপত্তার সব ব্যবস্থাই বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোতে নেয়া হয়েছে। তারপরেও সেটা আরো জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, যাত্রীদের চেক ইনের সময়েও এই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগে তাদেরকে বেল্ট, ঘড়ি বা জুতো খুলতে হতো না। কিন্তু এখন সেটা চালু করা হয়েছে।
পরিবহন পরীক্ষা করে দেখার জন্য স্ক্যানিং যন্ত্রসহ বিস্ফোরকের সন্ধানে মোতায়েন করা হয়েছে ডগ স্কোয়াড। ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা ও পুলিশের ক্লিয়ারেন্সও নেয়া হচ্ছে।
মেনন বলেছেন, সাধারণ যাত্রীদের জন্য যতোটা অসুবিধা হয় তার চেয়েও বেশি অসুবিধা হয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিভিআইপিদের জন্য। দেখা গেছে, তাদেরকে বিদায় ও স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে প্রচুর লোকজন ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে অনেক সময় একশো দেড়শো লোকও হাজির হয়। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার এই তাগিদ দেয়া হলেও আরো যেসব দেশের এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে যাতায়াত করে সেসব দেশের পক্ষ থেকে ঢাকাকে কিছু বলা হয়নি।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।