মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

S M Ashraful Azom
0

সড়ক দুর্ঘটনারোধে রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা পর্যায়ে সংযোজিত মহাসড়কের দু’পাশে অননুমোদিত সকল স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চালকদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি নির্ধারণ করে তা পাঁচ বছর পর কার্যকর করতে সরকারকে বলেছে আদালত।
 
এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানিশেষে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই মর্মে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইকোর্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নির্দেশনাগুলো হচ্ছে:  মহাসড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা। মহাসড়ক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০০১ এর ৮ বিধি বাতিলে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই বিধিতে বলা হয়েছে, মহাসড়কের ১০ মিটারের মধ্যে স্থাপনা তৈরির জন্য সরকার অনুমোদন দিতে পারবে। হাইকোর্টের নির্দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গঠিত সরকারি কমিটির ২৮টি সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। মহাসড়কে সড়ক বিভাজক তৈরি, পথচারী চলাচলের জন্য উপযুক্ত জায়গায় আন্ডারপাস নির্মাণ, স্কুল ও কলেজের পাঠ্যসূচিতে ট্রাফিক রুলস অন্তর্ভুক্ত করা।
 
২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পতিত হয় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর গাড়ির বহর। এতে ওই বহরে থাকা কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হলে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীসহ ১১ জন নিহত হন। এ ঘটনার পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আবেদনে বলা হয়, মহাসড়কে যান চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় আইন থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এমনকি মহাসড়কের পাশে দোকান স্থাপন, ধান শুকানোসহ নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যার ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেই চলেছে। যদিও হাইওয়ে অ্যাক্ট অনুসারে মহাসড়কের ১০ মিটারের মধ্যে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু এই বিধানও কার্যকর হচ্ছে না। আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে স্বরাষ্ট্র সচিব, যোগাযোগ সচিব, অর্থ সচিব, পুলিশের আইজি, ডিআইজি (হাইওয়ে), যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ ১১ বিবাদী করা হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট কয়েকদফা নির্দেশনা নিয়ে রায় প্রদান করে। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীর শুভ্র ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল টাইটাস হিল্লোল রেমা শুনানি করেন।
 
মনজিল মোরসেদ ইত্তেফাককে বলেন, হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা কার্যকর হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। সরকারের উচিত এই রায় কার্যকর করে সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষা করা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top