মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার

S M Ashraful Azom
0

নতুন রূপে ও চেতনায় এবার বিজয় দিবস পালন করল দেশবাসী। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ১৬ ডিসেম্বরের ভোরের সূর্য যেন স্বস্তি ও দায়মুক্ত বাংলাদেশের বার্তা নিয়েই উঠেছে। মাত্র ২৩ দিন আগে দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরসহ একাত্তরের ঘাতকদের বিচার দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় এবারের বিজয় দিবসে স্বস্তি ও প্রশান্তির হাসি এবং রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে যেন একাত্তরের মতোই জেগে উঠেছিল গোটা জাতি। একাত্তরের পর বিজয়ের এত আনন্দ আর নতুন প্রজন্মের স্বস্তির বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস অতীতে আর দেখা যায়নি। সবার হাতে ছিল ফুল, আর কণ্ঠে ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজাকারমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার।
 
বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, সব যুুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতা বিরোধীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, জঙ্গির অর্থায়ন বন্ধসহ জামায়াত নিষিদ্ধ, পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়া এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক স্বনির্ভর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বাঙালি জাতি গতকাল বুধবার পালন করল মহান ও গৌরবের বিজয় দিবস। শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দেয় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। সেখানে সর্বস্তরের লাখো মানুষের ঢল নামে। দেশের সব বিভাগ ও জেলা শহরের চিত্রও ছিল প্রায় অভিন্ন। এসব প্রমাণ করে, সেই রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের প্রতিটি ক্ষণ; কৃতজ্ঞ জাতি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারে না, ভোলেনি।
 
ভোরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। জাতির যে বীর সন্তানদের আত্মত্যাগে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, কিছুটা সময় নিরবে দাঁড়িয়ে একাত্তরের সেই শহীদদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আবারো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪৪তম বিজয় দিবস উপলক্ষে তার সরকারি বাসভবনে ৬টি স্মারক ডাকটিকেট, ৩টি উদ্বোধনী খাম, ৩টি ডাটা কার্ড এবং একটি স্যুভেনির অবমুক্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৪৪ বছর পূর্তিতে সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোরম ‘ফ্লাইপাস্ট’ এবং ‘এ্যারোবেটিক ডিসপ্লে’ প্রত্যক্ষ করেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ দুই ঘণ্টাব্যাপী মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। বিকাল পৌনে ৪টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের কেক কাটেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরাও রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বঙ্গভবনের বিশাল চত্বর ঘুরে ঘুরে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। আগত অতিথিদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তারা।
 
এদিকে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের পক্ষ থেকে বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন প্রজন্মের হাতে পতাকা হস্তান্তর করা হয়। এই প্রতীকী পতাকা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের উন্নতি ও রক্ষার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়া হয়। পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট তরুণ প্রজন্মকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ বাক্যে দেশের প্রতি আনুগত্য এবং বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার কথা বলা হয়।
 
বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। বেতার-টেলিভিশনে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে দিবসটির মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতাল, শিশুসদন, কারাগার ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া জাতির সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা জাতীয় সংগীত পরিবেশনসহ নানা আয়োজনে এবারই প্রথম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
 
বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় তিন কিলোমিটার পথে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রায় নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। মাথায় লাল সবুজের পতাকা। বুকে দেশপ্রেম। গালে আঁকা মানচিত্র খচিত পতাকা। সবার চোখে-মুখে ছিল বিজয়ের তৃপ্তি।
 
জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল
 
ভোরের প্রথম সূর্য পূর্ব আকাশে যখন উঁকি দিচ্ছে তখন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, দিনমজুরের পাশাপাশি শিক্ষিত, সব শ্রেণি পেশার মানুষ একে একে জড় হতে থাকেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঢল নামে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে। উদ্দেশ্য একটাই ৭১ শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন। দেশের শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসার ফুলে ফুলে ঢেকে যায় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী।
 
সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা হুইল চেয়ারে বসে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, বিচারপতিবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনার, কূটনৈতিক ছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যবৃন্দ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কূটনৈতিকরা চলে যাওয়ার পর সকাল ৮টা থেকে স্মৃতিসৌধ সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলে স্মৃতিসৌধের পাদদেশে লাখো মানুষের ঢল নামে।
 
জাতীয়ে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
এরপর জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণ ফোরাম, রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি, হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ, আ স ম রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, আলীনূর রহমান খান সাজুর নেতৃত্বে এনডিপি পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় শ্রমিক লীগ. সিআরপি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আফিসার সমিতি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, টিআইবি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন বাংলাদেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা জেলা শাখা, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সমূহ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাকের পার্টি, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাক সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, সাব-এডিটরস কাউন্সিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ, নজরুল ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
 
জাতীয় স্মৃতিসৌধে জেপি’র পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ
 
মহান বিজয় দিবসে সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং সকাল ৮টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেপি’র মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জেপি’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজ বাঙাল, খলিলুর রহমান খলিল, শাহীন আলদ্বীন রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম. সালাহ উদ্দিন আহমেদ, প্রকাশনা সম্পাদক কে. এম মজিবুর রহমান মজনু, যুগ্ম দপ্তর জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, যুব সংহতির সহ-সভাপতি জেড সেলিম, মঞ্জুর হাবিব (মঞ্জু), ঢাকা জেলা নেতা আপেল মাহমুদ প্রমুখ।
 
বরিশালে
 
বরিশাল অফিস জানায়, প্রথম প্রহরে পুলিশ লাইনস মাঠে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা করা হয়। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস, জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান, পুলিশ কমিশনার লুত্ফর রহমান মণ্ডল, ডিআইজি হুমায়ূন কবিরসহ বরিশালের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
 
খুলনা
 
খুলনা অফিস জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদায় খুলনায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরীর গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করা হয়।
 
চট্টগ্রাম
 
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে স্টেডিয়ামে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের র্যালি, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা পরিষদের উদ্যোগে বিজয়র্যালি সহ নগরীতে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রামে সকালে আয়োজিত র্যালিতে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেয়। সেই সাথে ১৪টি সরকারি বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরা র্যালিতে অংশ নিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top