
পৌর নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ ধরে মাঠে নেমেছে ধানের শীষের প্রার্থীরা। তারা ভোট অবধি টিকে থাকতে পারবে কি না- এমন তীব্র সন্দেহ নিয়েই প্রচারণার বিবিধ কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে। আর ছত্রভঙ্গ নেতা-কর্মীরা একে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনের প্রচারণা এবং তা পর্যবেক্ষণে গঠিত সমন্বয় সেল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কেন্দ্র থেকে প্রচারণার দিক-দর্শন দিয়ে কিছু বার্তা পাঠানো হয়েছে মাঠে। এতে প্রার্থীদেরকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিকে পুরোভাগে তুলে জনসংযোগ করতে বলা হয়েছে। জুলুম-নিষ্ঠুরতা, ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে উঁচু করে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের তালিকা সাংগঠনিক সম্পাদকদের হাতে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন মতো যার যার বিভাগের জেলাগুলোতে সফর করবেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা। একই সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে নিবৃত করা এবং দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করানোর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তারা।
দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনসংযোগের চেষ্টা করছি। আমাদের প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে থাকছে: সরকারের জোর করে ক্ষমতায় থাকার বিরুদ্ধে মানুষকে জেগে ওঠার আহ্বান।
তিনি বলেন, সরকারের কোন জনপ্রিয়তা নেই। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা মাঠ পর্যায়েও জুলুম নির্যাতনের জন্য তাদের ‘লিগ্যাল প্রতিনিধি’ তৈরি করতে চাচ্ছে। নির্বাচনটা যে একটা প্রহসন তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে তাদের কর্মকাণ্ড। আমরা নির্বাচনে নেমেছি আন্দোলনের অংশ হিসাবে। রিজভী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা হচ্ছে, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জাতীয় নির্বাচনের দাবি তৃণমূল থেকে জোর আওয়াজ তুলে ধরার জন্য, গ্রেফতার-নির্যাতন, হত্যা-গুমের বিরুদ্ধে।
বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়ক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনকে সরকার ও কমিশনের জন্য বিএনপি ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে নিয়েছে। সরকার ও কমিশনকে বিএনপি সুযোগ দিচ্ছে, যাতে পৌরসভা নির্বাচন তারা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে। আর যদি তারা তা না করে অতীতের মতো বিতর্কিত করে, তাহলে এ নির্বাচনেই সরকারের মরণঘণ্টা বেজে যাবে। আমাদের প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছে। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবার জন্য ভোটারদের উজ্জীবিত করছে। মাঠে আমাদের টিমগুলো কাজ শুরু করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে তারা।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি। আদৌ কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? না প্রহসন হচ্ছে। আমরা শেষ পর্যন্ত দেখবো। তারপর সিদ্ধান্ত নিবো নির্বাচনে থাকা না থাকা। এই নির্বাচন আমাদের আন্দোলনের একটা পার্ট। তিনি বলেন, অনিয়ম করলে সরকারকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। সেই লক্ষ্যেই আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত ৮টার দিকে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা, কৌশল নির্ধারণসহ নানা বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে। দলের সিনিয়র এক নেতা বলেন, চেয়ারপারসন নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে সরাসরি থাকবেন কিনা, প্রচারণায় কোথায় যাবেন তা চূড়ান্ত হবে। ওই নেতা বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন সরকারের আচরণের ওপর। কারণ অতীতেও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা জানি, বর্তমান সরকারের অধীন পৌর নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। সরকার প্রধানের হাত দিয়েই যখন অনিয়ম শুরু তখন এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি ১২তে বলা রয়েছে, দলীয় প্রতীকে দল থেকে একজনকেই মনোনয়ন দেয়া যাবে। সেই মোতাবেক শরীয়তপুর সদর আসনে রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। পরে ৭ তারিখ আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বাক্ষরিত ফারুক আহমেদ তালুকদারকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।