শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্কে মাদ্রাসা ছাত্রী নববধূর ভিডিও ধারনের চাঞ্চল্যকর মামলা ॥

Unknown
এম. সুরুজ্জামান, শেরপুর প্রতিনিধি:  শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক মাদ্রাসা ছাত্রী নববধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারনের চাঞ্চল্যকর পর্নোগ্রাফী মামলার রায় ঘোষনা করা হয়েছে।

শেরপুর যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হারুন-অর রশিদ ৭ নভেম্বর সোমবার জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষনা করেন।

ঘোষিত রায়ে পূর্ব সমেশ্চুড়া গ্রামের আব্দুর রহিম বিডিআর এর ছেলে আসামী শফিকুল ইসলাম (২৭) কে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রন আইনের ৮(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৮(৩) ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ওই দুই ধারার একটিতে ১ লাখ ও অপরটিতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অনাদায়ে মোট দেড় বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মামলার অপর আসামী একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে আঃ ছালাম (২৫) মতিউর রহমানের ছেলে মনু মিয়া (২৬) কে পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রন আইনের ৮(৭) ধারায় ৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

ওই ঘটনার মূলহোতা পশ্চিম সমেশ্চুড়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে আসামী মোস্তফা কামাল (৩০) কে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ১লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিকটিমের স্বামী নকলার চর বাছুর আলগা গ্রামের আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম বুলবুল (৩০) কে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়। আসামী নাজমুল হাসান লিটন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই রমজান মাসে উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও তারাগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার ডিগ্রি ক্লাসের ছাত্রী নববধূকে স্বামী নজরুল ইসলাম বুলবুল কেনাকাটা করার কথা বলে দুপুর বেলা মধুটিলা ইকোপার্কে বেড়াতে নিয়ে যায়।
ইকোপার্কের প্রধান ফটকে মটর সাইকেল রেখে বুলবুল স্ত্রীকে নিয়ে ওয়াচ টাওয়ারের মাঝামাঝি স'ানে বসে গল্প করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর সমেশ্চুড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম (২৭) আঃ ছালাম (২৫) ও মনু মিয়া (২৬) ওইস্থানে গিয়ে স্বামী বুলবুলের কাছ থেকে নববধূকে জোড় করে পাশের টিলাবেষ্টিত জঙ্গলে নিয়ে যায়।

এসময় ফিল্মি কায়দায় ৩ বখাটে ছুঁড়ি দেখিয়ে স্বামীর সামনেই নববধূকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলার পাশাপাশি যৌন নির্যাতন চালাতে থাকে। স্ত্রী নিজেকে বাঁচানোর জন্য স্বামীকে জাপটে ধরে। কিন' স্বামী বখাটের হাতে স্ত্রীকে সোপর্দ করে তাদের সব আবদার মেনে নেয়। এক পর্যায়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে মেয়েটি টিলা থেকে বিবস্ত্র অবস'ায় নিচে ঝাঁপ দিয়ে চিৎকার করলে এক মুরব্বী এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় রেঞ্জ অফিসে পৌছে দেয়। পরে বুলবুল ওই ঘটনাটি কাউকে না জানানোর নির্দেশ দিয়ে স্ত্রীকে নালিতাবাড়ী শহরে রেখে বাড়ীতে চলে যায়।
পরদিন ইজারাদার প্রতিনিধি বখাটে শফিকুল তার সহযোগী মোস্তফা কামাল নগ্ন ভিডিও নিয়ে ওই নববধূর বাড়ীতে যায় এবং তার বোন মাকছুদা বেগমের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা না পেয়ে নগ্ন ভিডিওটি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ সংশ্লিষ্ট আইনে নববধূর স্বামী নজরুল ইসলাম বুলবুল ও ইকোপার্কের কর্মচারী গোলাম মোস্তফাসহ ৫ আসামীর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালতে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করে। শ্লীলতাহানির মামলায় গত বছরের ৩ নবেম্বর ওই ৫ আসামীর ৭ বছর করে কারাদন্ড দেয় নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার পর্নোগ্রাফী আইনে দায়ের করা মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। 

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top