আবারও দ্রুততম মানবী হলেন শিরিন

S M Ashraful Azom
সেবা ডেস্ক:  জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের স্বর্ণটা যেন অবধারিতভাবে লেখা রয়েছে নৌবাহিনীর দুই অ্যাথলেট মেজবাহ ও শিরিনের জন্যই। পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানটাওতো ওই সংস্থারই।
বৃহস্পতিবার আসরের উদ্ধোধনী দিনে মেজবাহর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন আবদুর রউফ। তাদের পার্থক্য ছিল .০৬ সেকেন্ডের। আজ মহিলাদের ইভেন্টে অবশ্য তা হয়নি।
নৌবাহিনীর আরেক প্রতিযোগী সোগাহী আক্তার বেশ খানিকটা পিছিয়েই ছিলেন। ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করতে শিরিন যেখানে সময় নেন ১২.০১ সেকেন্ড। সেখানে সোগাহী ১২.২০ সেকেন্ড। এই দু’জনের পার্থক্যটা .১৯ সেকেন্ডের। ১২.৩৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষা খাতুন।
তবে প্রথম ৫০ মিটার শিরিনের সঙ্গে সমানতালে লড়েছেন সোহাগী। ৭০ মিটারে এসে পিছিয়ে পড়েন সোহাগী। এরপর অনেকটাই পিছিয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত হার মানেন শিরিনের অভিজ্ঞতার কাছে। এর আগে অবশ্য ২০০ মিটার স্প্রিনেট স্বর্ণ জিতেছেন সোহাগী। পর্যাপ্ত অনুশীলন না থাকায় ২০০ মিটারে অংশ নেননি শিরিন।
১০০ মিটারে সেরা স্প্রিন্টারের মুকুট মেজবাহ জিতেছেন পাঁচবার। অন্যদিকে শিরিন চারবার। তবে অলিম্পিক খেলে আসা এই দুই অ্যাথলেটেরই লক্ষ্য ছিল মুকুট ধরে রাখা। সেটাই হয়েছে। এবারও পুরুষ ও মহিলা দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব গেছে নৌবাহিনীর ঘরেই। সেরা স্প্রিন্টারের মুকুট ধরে রাখতে পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিরিন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসের পাঁ ছুয়ে সালামও করেন। এর কারণ অবশ্য ব্যাখ্যা করেন নৌবাহিনীর এই স্প্রিন্টার, আসলে সোহাগীকে অনেক বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়েছিল। তাই বেশ জোড়েই দৌঁড়েছিলাম। পড়ে দেখলাম আসলে আমিই চ্যাম্পিয়ন। তাই আনন্দে কান্না এসেছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শিরিন আক্তার। এ বছর পরীক্ষাও দিচ্ছেন তিনি। তাই পরীক্ষা শেষ করে বিকেল তিনটায় অনুশীলন করতেন শিরিন। অনেকটা কষ্ট করেছেন সেরার মুকুট ধরে রাখতে।
ফিনিসিং লাইন ছোঁয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে শিরিন তাৎক্ষণিক অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এবার এই খেতাব ধরে রাখতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এ জন্য আমি নৌবাহিনী ও কাফী স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। 
তখনো সময়টা হয়তো জানে না শিরিন। তবে টাইমিংয়ের যে উন্নতি হয়েছে সেটা বুঝতে পেরেছিলেন, আমার মনে হয় টাইমিংয়ে উন্নতি হয়েছে (যদিও এটি হ্যান্ড টাইমিং)। এটাই আমার চাওয়া ছিলো। জাতীয় আসরে শিরিনের আগের টাইমিং ছিল ১২.২০ সেকেন্ড। অলিম্পিকের পর নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ছিলেন বলে জানান শিরিন, আসলে অলিম্পিক গেমসে খেলাতেই একটি চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সেরার মুকুট ধরে রাখার। চ্যালেঞ্জটা নিজের সঙ্গেই ছিল। তা ধরে রাখতে পেরে আমি খুশি। তবে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের অভাবের কথা মেজবাহর মতো বললেন শিরিনও। তার কথায়, দীর্ঘ মেয়াদী অনুশীলন করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আর তা হলে আগামী সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে স্বর্ণের আশা করতে পারবো।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top