সেবা ডেস্ক: খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেরই তিন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বুধবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থীত্রয় এবং ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বাইরে বিএনপি-জামায়াতের ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে পড়ছে, তা নিয়েই চলছে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ।
এদিকে, বুধবার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি দু' প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে খুলনা মহানগরীসহ ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৫টি ওয়ার্ডে ৯৭০ জন ভোটারের (জনপ্রতিনিধিদের) ভোটে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ (আনারস প্রতীক), রূপসা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আলী আকবর (কাপ পিরিচ প্রতীক) এবং অজয় সরকার (চিংড়ি মাছ প্রতীক) অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে জেলার দাকোপ উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১৩০ জন, বটিয়াঘাটার ২টি কেন্দ্রে ১৩০ জন, ডুমুরিয়ায় ২টি কেন্দ্রে ১৩০ জন, ফুলতলায় ১টি কেন্দ্রে ৫৫ জন, দিঘলিয়ায় ১টি কেন্দ্রে ৬৩ জন, পাইকগাছায় ৩টি কেন্দ্রে ১৯৩ জন, তেরোখাদায় ১টি কেন্দ্রে ৬৫ জন, রূপসায় ১টি কেন্দ্রে ৬০ জন, কয়রায় ১টি কেন্দ্রে ৬৫ জন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১টি কেন্দ্রে ৬৯ জনসহ সর্বমোট ১৫ ওয়ার্ডের ৯৭০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ১ জন চেয়ারম্যান ও ১৫ জন সদস্য নির্বাচিত করবেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগেরই তিন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে দলীয় প্রার্থী না থাকায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন তা নিয়েই তারা রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বরসহ অন্তত ৩৩২ জন প্রতিনিধি (ভোটার) রয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের। বিরোধী দল-মতের প্রার্থী না থাকায় এ ভোট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদ্বয় ও তাদের অনুসারীরা খুলনার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কাছেই ভোট প্রার্থনা করেছেন। তবে তিন প্রার্থীই ভিন্নমতের ভোটারদের ভোট পাবেন বলে আশা করছেন।
কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভোট দাবি করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না পেলে সময়মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
কেসিসি মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, 'প্রার্থীরা ভোট চাইছেন।' তবে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ ও ১৭ জন আনসার সদস্য থাকবেন। এছাড়া পুলিশ ও র্যাবের মোবাইল টিম থাকবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে থাকবে।