টাঙ্গাইলে কচু চাষে অপার সম্ভাবনা

S M Ashraful Azom
0
টাঙ্গাইলে কচু চাষে অপার সম্ভাবনা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে সবার কাছে অতি পরিচিত সস্তা দামের সবজি কচু চাষ দিন দিন বাড়ছে। কচুতে রোগ বালাই কম ও কীটনাশক ছাড়াই আবাদ করা যায়। অন্যান্য ফসলের চেয়ে আবাদে খরচ কম ও ততটা পঁচনশীল নয়। তাই কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা কচু চাষের প্রতি ঝুঁকছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার চরাঞ্চল, ঘাটাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর ও সখিপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি কচু চাষ হয়। এ বছর জেলায় মোট ৭৫৭ হেক্টর জমিতে ১৬ হাজার ৬৯০ মে.টন কচু উৎপাদিত হয়েছে। কচু এমন একটি সবজি যার আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত খাওয়া যায় অথচ দামে খুবই সস্তা। লতি, ডাটা ও কচি পাতা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সুষম পুষ্টিকর সবজি হিসেবে পরিচিত ও কচু পুষ্টিগুণে ভরপুর।কচু বহু জাতের হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কচু দাষের ইতিহাস খুব অল্প দিনের। প্রায় তিন দশক ধরে টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষ হচ্ছে।

কচু নানা প্রকার ,যেমন- বন কচু, বিষ কচু, কাঁটা কচু, মুখী কচু, শোলা কচু, ওল কচু, মান কচু বা ফ্যান কচু, মোকাদ্দম কচু, সাল কচু, দুধ কচু, ঘেঁটু কচু, রক্ত কচু, পঞ্চমুখী বা থামা কচু, মৌলবী কচু, গাঢ় কচু ও ছাতি কচু ইত্যাদি। বনে জঙ্গলে যেসব কচু নিজে থেকে জন্মায় সেগুলোকে সাধারণত ‘বুনো কচু’ বলা হয়। এ ধরনের কচুর অনেকগুলো জাত খাবারের উপযোগী নয়। বিভিন্ন জাতের কচু অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামেও পরিচিত। তবে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে মুখীকচু, পানিকচু, বারি পানিকচু-১, বারি পানিকচু-২, বারি পানিকচু-৩, বারি পানিকচু-৪, বারি পানিকচু-৫ ও পঞ্চমুখী কচু নামীয় কচুর বাণিজ্যিক চাষের বর্ণনা পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগ জানায়, এছাড়া স্থানীয়ভাবে কিছু জাতের কচু জন্মায়- যা অঞ্চল ভেদে স্বল্প পরিমানে চাষ হয়। এদের মধ্যে মানকচু বা ফ্যানকচু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুখীকচুর বিলাসী ও বারীমুখীকচু-২ নামে দুইটি জাত রয়েছে। এই কচু প্রতি বিঘায় ৬০-৭০ কেজি বীজ রোপন করতে হয় এবং প্রতি বিঘায় ১২৫ থেকে ১৫০ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

কচু চাষে তাদের বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ বছর কচুর ফলন ভাল হওয়ায় প্রতি হেক্টরে এক থেকে দেড় লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জিত হবে বলে মনে করেন তারা।

টাঙ্গাইল কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কচুর চাষ প্রতি বছর বাড়ছে। কচু চাষে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়না, সাথী ফসল বা সবজি হিসেবেও চাষ করা যায়, খরচ কম, সস্তা হলেও সহজে বিক্রি করা যায়, লাভও হয় ভালো। তাই কৃষকরা কচু চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠছে। এছাড়া কচু শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ,বি,সি, ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। কচু দামে বেশ সস্তা হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মহিলারা ভিটামিন ও আয়রনের চাহিদা পূরণের জন্য অনেক সময় বেশি বেশি কচু খেয়ে থাকেন। জ্বর বিনাশে রান্না করা দুধ কচু অত্যন্ত কার্যকরী ওষুধি।
⇘সংবাদদাতা: টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top