কুড়িগ্রাম-৪আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী

S M Ashraful Azom
0
কুড়িগ্রাম-৪আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী

রৌমারী প্রতিনিধি: রৌমারী.রাজিবপর চিলমারীউপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-৪আসন। শেষমুহুর্তে একাদশ জাতীয় সংসদ র্নিবাচনে ২৮,কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী হাওয়া।

এ আসনে আওয়ামীলীগে,বিএনপি,জাতীয়পার্টি,ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বাসদ, জাকের পার্র্টি,স্বতন্ত্রসহ ১৬জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে লড়ছেন। তাদের মধ্যে ছাত্র শিক্ষক,নবীন-প্রবীন ও হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। তৃণমুল পর্যায়ে ভোটারদের মাঝে উজানী-ভাটিয়া, তাড়িয়া ইজুম ও সাম্প্রদায়িকতা বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। 

এ আসনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সাধারন ভোটাররা

বিগত ২০০৮সালে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাকির হোসেন আওয়ামীলীগ এমপি থাকা অবস্থায়, রাস্তা-ব্রীজ,কালভার্ড, স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসাসহ অসংখ্য কাজ ও উন্নয়ন করেছেন। এখন সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে।

এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিলে অবশিষ্ট কাজগুলো শেষ করবো এ প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা, নির্বাচনী প্রচারনা ও গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়া পায়ে হেটে বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারন মানুষের মাঝে মিশে গিয়ে ভোটারেেদর কাছে কুশল বিনিময়, ভোট প্রার্থনা ও দোয়া চান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা সভাপতি মো. আজিজুর রহমান (ধানেরশীষ) প্রতীক নিয়ে প্রদ্বন্দিতা করছেন। তিনি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঘ প্রতীক নিয়ে অংশ গ্রহনে করে হেরে যান। এবারে তিনি জামাত-বিএনপি ও ভাটিয়া ইজমকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ী হতে চান।

তবে তিনি মাঠে কর্মীদের নিয়ে কাজ করতে পারেননি ঠিকমতো। বিএনপি প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামাতের সাথে থাকায় এলাকাবাসির মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে জামাত থেকে একাধীকবার প্রার্থী দিলেও এ তিন উপজেলার ভোটারগণ তার সমর্থক ছাড়া অন্য কোন দলে ভোট দেননি। ফলে প্রতি নির্বাচনে জামাতের ভরা ডুবি হয়েছে।

অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম হাবিব দুলাল (সিংহ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তিনি ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নিবাচনে জাতীয় পাটির্ (এরশাদ) এর মনোনিত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতায় জামাতের প্রার্থী মো.আব্দুল লতিফ মাষ্টার (দাড়িপালা) প্রতীকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।তবে তিনি চিলমারী উপজেলায় কিছু উন্নয়ন করলেও রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় তেমন উন্নয়ন করেননি।

পরবর্তী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম হাবিব দুলাল আবারোও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও রৌমারী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. জাকির হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। সে নির্বাচনে তিন উপজেলার জনগণ জাকির হোসেনকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। ভরাডুবি হয়েছিল জাতীয়পার্টি (এরশাদ) লাঙ্গল প্রতীকে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম হাবিব দুলাল জাতীয়পার্টি দলত্যাগ করে ট্রুথপার্টি নাম দিয়ে নিবন্ধধনের আবেদন করেন নির্বাচন কমিশনে। ট্রুথপার্টির নিবন্ধন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। 

স্বতন্ত্রপ্রার্থী ও সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় ভোটারগণ তার নানা দূর্নীতির কথা তুলে ধরেন এবং তাকে ভোট না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আলোচনাও হচ্ছে। ফলে এ নির্বাচনে জনগণের তেমন সাড়া পাচ্ছেন না তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে সাবেক এমপি মো.রহুল আমিন জেপি (সাইকেল) প্রতীকে প্রার্র্থী চড়ান্ত হলেও এলাকায় কোন সাড়া না পাওয়া ও ভরাডুবির আশংকায় তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করতেছেন।

জাতীয়পার্টির মনোনিত (লাঙ্গল) প্রতীক প্রার্থী মেজর (অব:) আশরাফ উদ-দৌল্লা তাজ।কুড়িগ্রাম-৪আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মহা জোট থেকে দলীয় মনোনিত প্রার্থীকে একাধীকবার পরিবর্তন করা হয়েছিল।

মহাজোটের মধ্যে জাতীয় পার্টি (জেপি)র’ মনোনিত প্রার্থী (সাইকেল) প্রতীকে এমপি মো. রুহুল আমিন, আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী (নৌকা) প্রতীকে মো.জাকির হোসেন ও জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী (লাঙ্গল) প্রতীকে মেজর (অব:) আশরাফ উদ-দৌলা তাজ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় অবস্থান করেন।

যার যার মতো নির্বাচনী প্রচারনা ও করতে ছিলেন এই তিন প্রার্থী। পরবর্তীতে মহাজোটের সিদ্ধান্তে জাতীয়পার্টির (জেপি) সাইকেল প্রতীকে এমপি রহুল আমিন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আশরাফ উদ-দৌল্লা তাজ দলীয় সিদ্ধান্ত মতে ইতি মধ্যে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

তবে গণজাগরণ মঞ্চের মুখ্যপাত্র ইমরান এই্চ সরকার রৌমারী ও রাজিপুরে সাধারন মানুষের মাঝে নির্বাচনী প্রচারনা ও গণসংযোগ করে চলছেন।

এছাড়া পায়ে হেটে বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, সাধারন মানুষের মাঝে মিশে গিয়ে ভোটারেেদর কাছে কুশল বিনিময়, ভোট প্রার্থনা ও দোয়া চান। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ২২জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত ১৬জন প্রার্থী প্রতিন্দিতা করছেন। 

তারা হলেন, রৌমারী উপজেলা আ‘লীগ সভাপতি মো. জাকির হোসেন (নৌকা), উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো.আজিজুর রহমান, এমপি রুহুল আমিন জাতীয় পাটির জেপি (সাইকেল) তবে প্রত্যাহার করেছেন। 

সাবেক মেজর মো.আশরাফ উদ দৌল্লা তাজ জাতীয় পার্টি এরশাদ (লাঙ্গল) আলহাজ্ব মো.আনসার আলী ইশা (হাতপাখা),মো. শাহআলম জাকেরপার্টি (গোলামপফুল) মো. মহিউদ্দিন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি (কোঁদাল), মো. আবুল বাশার মঞ্জ বাসদ (মই),মো. আব্দুস ছালাম ওরফে কালাম গণতন্ত্রপার্টি, মো. আবু সাইদ খেলাফত মজলিস ।স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ডা: ইমরান এইচ সরকার, সাবেক এমপি মো. গোলাম হাবীব দুলাল, মো. এ্যাড.জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইমান আলী ইমন, সামছুল হক মৌলভী, কেএম ফজলুল হক মন্ডল, মোস্তাফিজুর রহমান, মো.আবুল হাশেম, অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী, মো.বাবুল খান, মো. আবিদ আলভী জ্যাপ।

⇘সংবাদদাতা: রৌমারী প্রতিনিধি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top