
মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরে জনৈক সাহেব আলী (৪০) নামের প্রতিবন্ধীর পরিবার একটি প্রতারক চক্রের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিজ জমিতে পোল্ট্রি ফার্ম করে প্রতারক চক্রের পাল্লায় পড়ে লাভের আশায় সেটি ভেঙ্গে ডেইরি ফার্ম করে লাভ তো দূরের কথা জমি হারাতে বসেছে পরিবারটি।
দুই/চার লাখ টাকা একসাথে করে দেখার সুযোগ না থাকলেও মামলায় পড়ে ৫১ লাখ টাকা জরিমানা প্রদানের আদালতের আদেশ নিয়ে এখন পালিয়ে দ্বারে-দ্বারে ঘুরছে পরিবারটি।
মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের গুবুদিয়া গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অটো ড্রাইভার সাহেব আলীর পরিবার পড়েছে এমন দুর্ভোগে।
সাহেব আলী অভিযোগ করেন, একই জেলার দেলদুয়ার উপজেলার কৈজুরি গ্রামের মৃত গাজী মাহমুদের ছেলে বর্তমান বাসাইল উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি মো. বাবুল হোসেনের (৫০) পাল্লায় পড়ে তিনি ও তার পরিবার এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
২০১৬ সালে মধুপুরের ভট্টবাড়ীর মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে পূর্ব পরিচিত সাইফুলের মাধ্যমে এই বাবুলের সাথে পরিচয়। লাভের স্বপ্ন ও লোভ দেখিয়ে চুনিয়া মৌজার ১০১১, ১০৭২ নং দাগের ৫০ শতাংশ নিজস্ব ভূমির উপর পানির লাইন, বৈদ্যুতিক মোটরসহ স্থাপিত পোল্ট্রি ফার্মের দেড়শ ফুট ও ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ২টি টিনের ঘর ভেঙ্গে ডেইরি ফার্ম করার পরামর্শ দেন বাবুল ও তার ভায়রা সাইফুল। এতে জমির জন্য অতিরিক্ত ১ ভাগ লাভের প্রতিশ্রতিতে করা হয় অংশীদারী ব্যবসার দলিল ।
অংশীদারী দলিলে বাবুলের স্ত্রী, ভাই ও ভায়রাকে করা হয় অংশীদারী। একাধিক চুক্তি নামায় স্বাক্ষর ও ব্যাংক লোন পেতে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ১০ পাতা চেক কেটে নেয় বাবুল ও তার ওই সঙ্গীয়রা। ধাঁধাঁয় ফেলে চার মাস পর সাহেবের স্ত্রী সেলিনা বেগমের কাছ থেকেও ১০ পাতার স্বাক্ষরিত চেক নিয়ে নেয় বাবুল চক্র। এভাবে ২০ টি চেক নিয়ে তারা গরুর খামার না করে ব্যবসা থেকে সটকে পড়েন।
অংশীদারী কারবারনামা দলিল ও অঙ্গীকার নামার শর্ত মোতাবেক সাইফুল ও বাবুল ভায়রাদ্বয় সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ে তার পোল্ট্রি ফার্মের স্থানে হযরত খাজা বাবা (রাঃ) গরু মোটা তাজাকরণ খামার লিঃ নামে কোন প্রকার গরু না এনে অসৎ উদ্দেশ্যে সময় ক্ষেপন করতে থাকে।
এ নিয়ে তাদের চাপ দিলে উল্টো চেকের পাতায় মনগড়া টাকার অংক বসিয়ে বাবুল তার স্ত্রী খালেদা আক্তার ও ভাই হযরত আলীকে দিয়ে সাহেব আলী এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মধুপুর আমলী আদালতে সি.আর ৩২১/২০১৭, সি.আর ৩২২/২০১৭, সিআর ১৩৬/২০১৮, সিআর ১৩৭/২০১৮এই চারটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনায় এনআই এাক্টের ১৩৮ ধারার বিধান মতে মোকদ্দমা দায়ের করেন।
চারটি চেকে ৭৫ লাখ টাকার দাবিতে তাদের এ মিথ্যা মামলা রুজু হয়। বিজ্ঞ আদালত ওই মামলায় সাহেব আলী ও তার স্ত্রীকে ৫১ লাখ টাকা প্রদানের সাথে এক বছরের কারাদন্ডাদেশ দেন। ২/৪ লাখ টাকা জোগাতে যে পরিবারের কষ্টের সীমা থাকবে না এ আদেশের পর সেই পরিবারের কর্তা সাহেব আলী ও স্ত্রী সেলিনা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।
পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। তাদের কাছে আরও ১৬ টি চেক রয়েছে দাবি করে সাহেব আলী জানান, সাঙ্গপাঙ্গ বাড়িয়ে বাবুল সাইফুলরা এখন তাদের ওই জমি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষেয়ে কিছু বললেই নানা হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা। একবার ডিবি পুলিশের সাহায্যে অপহরণ করে নিয়ে পিটিয়ে এসপি কার্যালয়ে হাজির করার শর্তে রেখে যাওয়ার অভিযোগ করেন সাহেব আলী। সাহেব আলী আরও জানান, ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর এ নিয়ে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আপোষ মিমাংসার বিষয়ে বৈঠকের কথা থাকলেও তারা উপস্থিত হননি। বরং বিভিন্নভাবে খুন জখমের ভয় ভীতিসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ক্ষতি সাধন করবে বলে হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন।
বাসাইল উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি বাবুল হোসেন এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
সাহেব আলীর আবেদনের প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের নির্দেশে সহকারি পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) এ বিষয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন তাতেও প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। একই সাথে পুলিশ ব্যুরো অব ইভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সরজমিনে তদন্ত রিপোর্টেও উঠে এসেছে প্রায় একই চিত্র।
এ সব বিষয় নিয়ে সবশেষে গত ১৫ জানুয়ারি এলাকার সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে সবিস্তারে জানালে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিবেন বলে জানিয়েছেন সাহেব আলী।
⇘সংবাদদাতা: মধুপুর প্রতিনিধি

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।