
সেবা ডেস্ক: বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিরহরিৎ বৃষ্টি-অরণ্য যার আরেক নাম পৃথিবীর ফুসফুস আমাজনে লাগা স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল নিভিয়ে বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জি-৭ দেশগুলোর ঘোষিত সহায়তা নেবে না ব্রাজিল সরকার। গত সোমবার ফ্রান্সের বিয়াররিৎজ শহরে বিশ্বের সাত ধনী দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে এক যৌথ ঘোষণা ওই অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে মঙ্গলবার ব্রাজিল সরকার তা গ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর অভিযোগ, এর মাধ্যমে জি-৭ দেশগুলো তাদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা প্রকাশ করছে এবং আমাজনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজছে।
এরই মধ্যে টাইটানিক চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বখ্যাত তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও আমাজনের সুরক্ষায় ৫০ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে আমাজনে আরও শত শত স্থানে নতুন করে আগুন লেগেছে। তবে ব্রাজিলের ৪৩ হাজার সেনা মোতায়েন করে বিশাল সুপারট্যাঙ্কার বিমান থেকে দাবানলের ওপর পানি ছিটানোর কাজ চলছে।
যদিও এই বিপুলসংখ্যক সেনার মধ্যে কী পরিমাণ কাজে নিয়োজিত হয়েছেন, তা স্পষ্ট করেনি ব্রাজিল সরকার। এদিকে দাবানলে ভুক্তভোগীরা ভয়াবহ
বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো জ্বলছে বন। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের।
টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পুড়ছে 'ধরিত্রীর ফুসফুস'খ্যাত আমাজন জঙ্গল। ৯টি দেশে বিস্তৃত আমাজনের ৬০ শতাংশ পড়েছে ব্রাজিলের মধ্যে। চলতি বছরের আট মাসে গত সোমবার পর্যন্ত আমাজনে ৮৩ হাজার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দানাবল। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে বন উজাড় করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে দেশটির কট্টর ডানপন্থি ও ট্রাম্প-ভক্ত প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো। তবে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও চাপের মুখে আগুন নেভালে সেনা নামানোর ঘোষণা দেন তিনি। এরই মধ্যে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বোলসোনারোর কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে সাতটি রাজ্য। রোনডোনিয়াসহ সেনা সহায়তা চাওয়া রাজ্যগুলো হলো- পারা, রোনডোনিয়া, রোরাইমা, টোকানটিন্স, অ্যাক্রি, ম্যাটো গ্রোসো ও আমাজোনাস। এর মধ্যে রোন্ডোনিয়া প্রদেশে পড়া আমাজনে দানাবাল নেভাতে যুদ্ধবিমান থেকে পানি ছিটাচ্ছেন সেনারা।
জি-৭-কে প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের মুখ্য কর্মকর্তা অ্যানিক্স লোরেনি বলেন, 'আপনাদের ধন্যবাদ। তবে এই অর্থ আসলে ইউরোপের বনায়নে ব্যয় করাই বেশি ভালো হবে।' তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন নটর ডেম গির্জার আগুন নিয়েই কিছু করতে পারেননি মাক্রোন। আর তিনি আমাদের শিক্ষা দিতে এসেছেন।'
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।