
সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ৭৯২ কোটি টাকা, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে চার হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। মূলত স্থানীয় ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের তারল্য সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি এবং স্বর্ণ ও ডলারের দর বাড়ার কারণে মুনাফা এতটা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। নিয়ন্ত্রক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করে। প্রয়োজনের সময় কখনও ডলার বিক্রি বা ক্রয় করে। এছাড়া মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনার জন্য রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়া, রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়াসহ নানা কাজ করে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ ডলারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া স্বর্ণ, ইউরোসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ সংরক্ষিত আছে। এসব কার্যক্রম থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা হয়ে থাকে।
বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত অর্থবছর ব্যাংকগুলোর কাছে ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ভালো মুনাফা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানের ৩২ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ বিভিন্ন মুদ্রায় বিনিয়োগ রয়েছে। এ থেকেও আয় এসেছে। বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া ডলার বিক্রির ফলে বাজার থেকে শুধু গত অর্থবছর ২০ হাজার কোটি টাকা উঠে এসেছে। এতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেয়।
সংকট মেটাতে ব্যাংকগুলো ডলার কেনার পাশাপাশি রেপো, স্পেশাল রেপো ও বিশেষ তারল্য সহায়তার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা ধার করে। এসব ধারের বিপরীতে ৬ শতাংশ সুদ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বাইরে বিভিন্ন মুদ্রায় বাংলাদেশ ব্যাংক যে রিজার্ভ রেখেছে ইউরো ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার দর বেড়েছে। সব মিলে মুনাফা ব্যাপক বেড়েছে।
সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, এক বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে তিন হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক কোনো বছরে এত মুনাফা করতে দেখা যায়নি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল। তারপরও মুনাফা হয়েছিল মাত্র ৭৯২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির ফলে উৎসাহ বোনাস বাড়ানো হয়েছে। গতকালের পর্ষদ বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাড়ে চার মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাস দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে নতুন বেতন স্কেল কার্যকরের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েক বছর পাঁচটি করে উৎসাহ বোনাস দিয়েছিল।
২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত কয়েক বছরে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল। প্রয়োজনের তুলনায় তখন ডলারও ছিল বেশি। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে প্রচুর ডলার কিনেছিল। তাতে করে বাজারে ব্যাপক তারল্য ছিল। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক খুব একটা মুনাফা অর্জন হয়নি।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।