
শামীম তালুকদার: জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মালির চর ১ নং ওয়াডের ডা:আব্দুল হাই এর বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন বাড়িতে এক বনবিড়াল ধরা পড়েছে। খাদ্য সন্ধানে লোকালয়ে এসে 'ন্যূনতম বিপদগ্রস্থ’ ঘোষিত এ প্রাণিটি ধরা পড়ে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,চতুর বন বিড়ালটি বেশ কিছুদিন যাবৎ উক্ত গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ও ফার্মের মুরগিসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণি খাবার হিসাবে খাচ্ছিলো। এতে ব্যবসায়িক দিক ক্ষতির শিকার হওয়ায় আজ শুক্রবার ভোরে মালির চর গ্রামে বন বিড়ালটিকে কৃষক নজরুল ইসলাম এর পাতা নেট যুক্ত ফাঁদে টুপ দিয়ে ধরা হয়।বনবিড়ালটি আহত হয়েছে এবং গ্রামবাসী দেখতে ভিড় জমিয়েছে।
উল্লেখ্য স্থানীয়ভাবে প্রাণীটি ওয়াপ,ওয়াফ নামে পরিচিত।এক সময় সারা দেশে গ্রামীণ বনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচরণ লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে গ্রামীণ বনভূমি না থাকায় আবাস ও খাদ্য সংকটে অন্যান্য ছোট,মাঝারি প্রাণির মত বনবিড়ালও অনেক কমে গেছে।বাস্তুুতান্ত্রিক গুরুত্ব বিবেচনায় বনবিড়াল কৃষকের বন্ধু হিসাবে কাজ করলেও খাদ্য সংকটে হঁাস,মুরগি,কবুতরও খাবার হিসাবে গ্রহণ করার কারণে শত্রু হিসাবেই বিবেচিত বেশি।ইদুর,ক্ষতিকর ফরিংসহ ফসলের নানা পোকামাকড় খেয়ে ক্ষতির চেয়ে উপকারই করে বেশি। সরকার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কতৃক বনবিড়াল সহ সকল বন্য প্রাণির বিষয়ে নানান নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, বন বিড়াল বা জংলীবিড়াল (Felis chaus), খাগড়া বিড়াল ও জলাভূমির বিড়াল, মাঝারী আকারের একটি বিড়াল, যা এশিয়ার দক্ষিণ চীন, মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিমে নীল নদ উপত্যকায় দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
জংলীবিড়াল CITES Appendix এর তালিকাভুক্ত। জংলীবিড়াল শিকার বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইসরায়েল, মায়ানমার, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, এবং তুরস্কে নিষিদ্ধ।তবু সংখ্যা কমার ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ IUCN (আইইউসিএন) বনবিড়ালকে ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্থ’ বলে তালিকাভুক্ত করেছে।।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।