
শফিকুল ইসলাম: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ডাক্তারের কান্ড দেখে এলাকাবাসী হতবাক। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের রাতে ভর্তি ও রহস্যজনক ভাবে সকালেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তোপের মুখে আবারো ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে গাছের শুকনা পাতা জোড়ানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয় ৪ জন। ৬মার্চ (শুক্রবার) বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রামে ওই ঘটনাটি ঘটে। আহত ব্যক্তিদেরকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকালের দিকে গোয়ালগ্রামের সুরমানের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৩৫) গাছের শুকনা পাতা জোড়াতে গেলে একই গ্রামের শুকুরের স্ত্রী হাছেন বানু পাতা জোড়াতে বাধাদেয় এবং উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডতা সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি পুরুষ পর্যায় জানাজানি হলে উত্তেজিত হয়ে উঠে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরে বিবাদি আমির হোসেন ও সোরমান আলীর বাড়ীর সামনে দিয়ে বাদি পক্ষ বাদশা মিয়া (৫০), মাইদুল ইসলাম (২৬), জাহিদুল ইসলাম (২৪) ও ছক্কু মিয়া (৪৫) রৌমারী বাজারে যাইতে ছিল। এ সময় ঔৎপেতে থাকা আমির হোসেন, সোরমান আলী, নাজমুল, মাসুদ, আকাশ মদিনাসহ আরো অনেকেই লাঠি সোঠা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে গোয়াল গ্রামের মৃত আলী মোহাম্মদের ছেলে বাদশাহ মিয়া ও তার ছেলে মাইদুল ইসলাম ও ছোট ভাই জাইদুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রæত রৌমারী হাসপাতালে ভর্তি করান।
এদিকে আহত রোগীরা শুক্রবার সন্ধায় ভর্তি হলেও শনিবার সকালেই রহস্যজনক কারনে তাদেরকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ নিয়ে হত-দরিদ্র রোগীরা হাসপাতালের সামনেই আর্ত্মনাত করতে থাকে।
রোগীদের আর্ত্মনাত শোনে হাসপাতালের আশপাশের লোকজন জমায়েত হয় এবং ডাক্তারদের এহেন কান্ডকীর্তির দেখে হতবাক হয়ে উঠে।
এমতাবস্থায় রোগীদের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পারে ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ নিয়ে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার অনুপ কুমার বিশ্বাসের কাছে ঘটনাটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগী সুস্থ্য হয়েছে তাই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
রোগীদের এমন অবস্থার কথা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে অবস্থা বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে আবারো ওই রোগীদের ভর্তি করে নেওয়া হয়।
এবিষয়ে রৌমারী হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার নাজমুল হাসানকে বলেন, আমি রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি জানিনা। তবে যেহেতু তারা সুস্থ্য হয়নি আবারো তাদেরকে নতুন করে ভর্তি নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
রৌমারী হাসপাতালের কর্মকর্তা ডাক্তার মোমেনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তবে খোঁজ নিচ্ছি।
রৌমারী থানার ওসি (তদন্ত) মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, বিষয়টির উপর অভিযোগ পেয়েছি। তবে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।