
শফিকুল ইসলাম: কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় এবার ১ হাজার ১০৬ মেট্রিকটন পিঁয়াজ উৎপাদন করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ। বাজারের পিয়াজের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯/২০ সালে পিয়াজ চাষে লক্ষ্যমাত্রা নিধারন করা হয়েছিল ১’শ ১০ হেক্টর জমি এবং অর্জিত হয়েছে ১’শ ৪১ হেক্টর। মোট উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ১’শ ৬ মেট্রিকটন। যে উৎপাদন গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল। ২০১৮ সালে পিয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হেক্টর জমি ও অর্জিত হয়েছে ৯০ হেক্টর জমি। যার মোট উৎপাদন ছিল ৭’শ ২ মেট্রিকটন।
বাজারের পিঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা ও বাজার মূল্য বেশি থাকায় কুড়িগ্রাম জেলাধীন রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড় চরাঞ্চলে পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে অধিক ফলন ও ভালো দাম পেলে প্রতি একরে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে পিঁয়াজ চাষীদের।
চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের উৎস কৃষি চাষাবাদ ও মাছ ধরা। উপজেলার বন্দবেড় চরশৌলমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে গ্রামবাসী নদী ভাঙ্গনের ফলে ফসলী জমি ও ভিটা-মাটি হারিয়ে বালুরচরে ঘর বেঁধে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পিঁয়াজের বাজার মূল্য বেশি থাকায় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে চরাঞ্চলের কৃষকরা পিঁয়াজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পিঁয়াজ চাষ ভালো হয়েছে।
উপজেলার ঘুঘুমারী গ্রামের কৃষক জলিল মোল্লাহ বলেন, আমি তিন একর জাগায় পিঁয়াজ চাষ করেছি। আমার একর প্রতি খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে ফলন হবে ৮০-৯০ মণ। বাজারে এক মণ পিঁয়াজের দাম ১৮’শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা যাবে। এক একর পিঁয়াজ বিক্রয় করে লাভ হবে প্রায় ৭০/৭৫ হাজার টাকা।
সোনাপুর গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া জানান, চরের বালু মিশ্রিত জমিতে অন্য ফসলের তুলনায় পিঁয়াজ চাষ ভালো হয়। এবার বাজারে পিঁয়াজের দাম বেশি থাকায় আমি ২ একর জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছি। সামান্য সেচ দিলে ফলন আরো বেশি ভালো হয়। রাসায়নিক কোনো সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে পাওয়া যায় আশাতীত ফলন। পিঁয়াজ চাষে পরিশ্রম কম ও লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পিঁয়াজ চাষ চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে।
ফুলুয়ারচর গ্রামের ইসমাইল হোসেন, কুটিরচর গ্রামের ওয়াজেদ আলী বলেন, এবার বাজারে পিঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় চরের অনেক জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছি আমরা ও এলাকার অনেক কৃষক, সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের সার বীজ দিয়া সহযোগিতা করলে বিদেশ থেকে পিঁয়াজ আনতে হবে না। চরাঞ্চলে হাজার একর জমি পতিত অবস্থায় পড়ে আছে, টাকার অভাবে চাষাবাদ করছেন না কৃষকরা।
বন্দবেড় ইউনিয়নের খনজনমারা বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড় চরাঞ্চলের মাটি পিঁয়াজ চাষের জন্য খুব উপযোগী। বাণিজ্যিক ভাবে পিঁয়াজ চাষের উদ্যোগ গ্রহন করলে বদলে যেতে পারে চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকের ভাগ্য। চরাঞ্চলে পিঁয়াজসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করছি।
ফ্রেন্ডশিপ প্রকল্প ম্যানেজার মোশরেফুর রহমান জানান, বিল্ডিং রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় ঘুঘুমারী, সোনাপুর এলাকার কৃষিকদের পিঁয়াজ চাষের উপর প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন পরার্মশ প্রদান করে আসছি আমরা।
সিএসডিকে এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক মো. আবু হানিফ মাস্টার বলেন, আমার চরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে অর্থকরী ফসল পিঁয়াজ, চিনা, কাউন, বাদাম, মাষকালাই, মুসুর ডালসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বীজ, সার, নগদ অর্থ, পরামর্শ প্রদানসহ কৃষি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠান করে কৃষির টেকসই উন্নয়নে কাজ করছি।
উপজেলা কুষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, রৌমারী উপজেলা পিয়াজ চাষের জন্য উপযোগী অনেক জমি রয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার দ্বিগুণ পিয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এ মৌসুমে ২০ জন কৃষককে পিয়াজ ও ১০জনকে সূর্য্যমুখি কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ পিয়াজ চাষ হবে। একপাশে উৎপাদন খরচ কম, অপর দিকে বাজার মুল্য বেশি। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।