
রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া): প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ছোবল সারাদেশে। আক্রান্তের সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এখন ঘরমুখী। ইতিমধ্যে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। এমন ক্রান্তিকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গরুর মড়কে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
জানা গেছে, করোনা দূর্যোগে গো-খাদ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। অনেকেরই গরুর খাদ্য কেনার সামর্থ নেই। গ্রামীন জনপদে নেই কোন গো-চারণ ভুমি। এতে কৃষকের ঘরে গো-খাদ্যের চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে বাজারে গরুর দুধ পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলে কৃষক মহাবিপাকে পড়েছেন।
এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মাঝে আবার গরুর মড়গ লেগেছে। উপজেলার কাশিয়াহাটা ও খাদুলী গ্রামে গরুর অজানা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহে কাশিয়াহাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ২টি, খাদুলী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ১টি ও আসাদুল ইসলামের ১টি গরু মারা গেছে। এ ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষকেরা।
রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, মারা যাওয়ার আগে কয়েকদিন ধরে আক্রান্ত গরু কোন খাবার খায় না। শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। শ্বাস কষ্টে ছটফট করে। মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। সেভাবে চিকিৎসার কোন সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গরুর মড়কে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষক। স্থানীয় পশু চিকিৎসককে দিয়ে গরু চিকিৎসা করালেও কোন ফল মিলছে না বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আসাদুল ইসলাম জানান, অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ১টি গরু মারা গেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন এই গ্রামের সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০ লিটার করে দুধ দিচ্ছিল এমন একটি গরু হঠাৎ করেই মারা যায়। আক্রান্ত গরু চিকিৎসা করার সময় পাওয়া যায়নি। পরে মারা যাওয়া গরু গুলো তড়িঘড়ি করে মাটিতে গর্ত করে পুতে রাখা হয়েছে বলে জানান তারা।
ধুনট উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকার কোথাও থেকে কেউ আমাকে গরুর মড়কের খবর জানাননি। তবে এ সময় গরু নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত গরু ঔষধ সেবনের ক্ষেত্রে কৃষক ভুল করে থাকেন। এ কারণে গরু মারা যাওয়ার আশংকা রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে খোঁজ খবর নিয়ে কৃষকের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
