বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা

S M Ashraful Azom
0
বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা

সেবা ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা। পিতা বঙ্গবন্ধু আদর করে ডাকতেন হাসু নামে। ১৯৮১ সালে ডুবন্ত নৌকার হাল ধরেন, ধরে রেখেছেন আজো। সিক্ত হয়েছেন লাখো নেতা-কর্মীর ভালোবাসা-শ্রদ্ধা-স্নেহে। ভেঙেছেন সামরিক সরকার, অগণতান্ত্রিক সরকার, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বেড়াজাল, সেই শেখ হাসিনা আজ সারা বিশ্বের বিস্ময়, বাংলাদেশের অহংকার।

১৯৫৪ সালে শেখ হাসিনা পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় প্রথম মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস শুরু করেন।

১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন।

১৯৬১ সালের ১লা অক্টোবরে শেখ হাসিনা পরিবারসহ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

১৯৬২ সালে স্কুলের ছাত্রী হয়েও আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনসহ আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার নেতৃত্বে মিছিল বের করেছিলেন শেখ হাসিনা।

১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শেখ হাসিনা এসএসসি পাস করেন। 

১৯৬৬ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করা শেখ হাসিনা ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ১৭ই নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  

১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্মাতক ডিগ্রি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

১৯৭৫ পৃথিবীর অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট। এই রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তখন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ ও শেখ রেহানা দেশে না থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। 

১৯৮১ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর দেশ ও দলের এ দুঃসময়ে সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। 

১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করে এরশাদ বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা। 

১৯৮৩ সালে দেশজুড়ে সামরিক শাসক এরশাদবিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠায় ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারী চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশ ও বিডিআর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা হলেও নিহত হন ১১জন সাধারণ নেতা কর্মী ও সমর্থক। 

১৯৯০ সালে শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং এই আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। 

১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গোলাম আজমের ঐতিহাসিক বিচার সম্পাদন করা হয়। এই আন্দোলনে শেখ হাসিনা যদি পাশে না দাঁড়াতেন তাহলে এই গণবিচার করা সম্ভব হতো না। 

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ট্রেন অভিযাত্রায় ঈশ্বরদী ও নাটোরে বোমা হামলা ও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ আহত হন শতাধিক। 

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এবং ঐ বছরই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তর্জাতিক গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। 

১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাঙ্গালির অমর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনেস্কো। 

২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক জনসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হয় প্রায় তিন শতাধিক। 

২০০৬ সালের পট পরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ১৬ জুলায় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। 

২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে ৬ জানুয়ারী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা ষষ্ঠ ক্ষমতাধর নারী হিসেবে নির্বাচিত হন। 

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিজয়ী হলে ১২ জানুয়ারী তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। 

২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ৭ জানুয়ারী চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। 

শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। জননেত্রী, দেশরত্ন, ভাষাকন্যা ইত্যাদি নানা বিশেষণে তাঁকে ভূষিত করা হয়। পুরনো দিনের মানুষরা একান্ত নিজের মতো করে বলেন, ‘শেখের বেটি’। বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার জন্যে কত প্রকার চেষ্টাই না করেছে। শেখ হাসিনাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। অনেকের মনে থাকার কথা ১/১১ সরকারের সময় ঢাকা শহরের ২৫ লাখ মানুষ শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে স্বাক্ষর দিয়েছে। শেখ হাসিনার সততা ও দেশপ্রেমের জন্যে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার কাছে কাজটাই বড়। দেশের সকল জনের কাজ, জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষের কাজ। আমজনতা নিশ্চিত করে বলতে পারে- শেখ হাসিনা আমাদের, শেখ হাসিনার কাজ আমাদের কাজ। শেখ হাসিনার বাংলাদেশের দিকে উন্নত দেশের নেতারা অবাক হয়ে বলেন, মাননীয় শেখ হাসিনা, আপনি তো উন্নয়ন বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন। শেখ হাসিনার চিন্তায় একটা জীবন্ত রূপ আছে। যে মৌল প্রত্যয়গুলো নিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন তা কোনদিনই পরিবর্তিত হয়নি। কয়েকটি মূল সূত্রে এই প্রত্যয়গুলো বিধৃত। সূত্রগুলো এই মানবতায় বিশ্বাস, শান্তি, প্রীতি, ঐক্য ও সঙ্গতিতে সমাজ-আদর্শের সন্ধান, সর্ববিধ নিপীড়ন, সঙ্কীর্ণতার বিরোধিতা। যে পথ সহজ সরল, যে পথ কেন্দ্র থেকে বহুমুখী সে পথকে একমাত্র পথ হিসেবে গণ্য করা।

২০১৫ সালেই ইউনেস্কোর মহাসচিব ইরিনা বোকোভা শেখ হাসিনার হাতে ‘পিস্ট্রি’ পদক তুলে দিয়েছিলেন। তার চেয়েও গুরত্বপূর্ণ ইউনেস্কোর মহাসচিবের বক্তব্যের সারার্থ। ‘এই সাহসী নারী আলোকবর্তিকা হিসেবে সারা পৃথিবীতে পথ দেখাচ্ছেন।’ সত্যিই তো শেখ হাসিনার জীবন কর্মবহুল ও বৈচিত্র্যে ভরপুর। এখন এটা শুধু একটি নামই নয়, এটা একটি প্রতিষ্ঠান। Work is worship- যার জীবনের মূলমন্ত্র। কর্ম-জ্ঞান ও ভক্তির অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত এক অসাধারণ জীবন তাঁর। শেখ হাসিনা বাঙালী জাতির ralling point, cementing bond। জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের জনগণের কাছে মুক্তিযুদ্ধের একটি রূপক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্যাটার্নেও সাদৃশ্য খুব বেশি। ত্যাগ, প্রজ্ঞা, ঐক্যচেষ্টা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, ভাবাদর্শেও যুগোপযোগী সমন্বয় ইত্যাদি সবকিছুর দিক দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পিতা-পুত্রীর মধ্যে অদ্ভুত মিল। পার্থক্য শুধু প্রেক্ষাপটগত। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিকাশ ঘটেছিল বিজাতীয় পশ্চিম পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, আর শেখ হাসিনাকে লড়তে হয়েছে ১৯৭৫-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতানা বিনাশী প্রতিবিপ্লবের বেনিফিশিয়ারিদের বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার সর্বাত্মক অপচেষ্টার বিরুদ্ধে।


ভিডিও নিউজ


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top