বনশ্রীতে আবুল খায়ের হত্যা মামলায় জড়িতদের যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

S M Ashraful Azom
বনশ্রীতে আবুল খায়ের হত্যা মামলায় জড়িতদের যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা



ঢাকা প্রতিনিধি: ঢাকা রামপুরা থানায় চাঞ্চল্যকর আবুল খায়ের হত্যা মামলায় জড়িত তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন মহামান্য আদালত এবং অন্য চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বিকালে ঢাকা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জনাব কেশব রায় চৌধুরী এ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারী।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মার্ক ডিজাইন এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক জাকির হোসেন, ইস্টার্ন  মোবাইল এর স্বত্বাধিকারী এবং সদর থানা যুবদলের সদস্য আলমগীর হোসেন। মার্ক ডিজাইন এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বনানী থানা বিএনপি'র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান।
এই তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। 

এছাড়াও মার্ক ডিজাইন এন্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. টি. কে হক মিন্টু ও পরিচালক আহসানুল কবিরকে দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

একই কোম্পানির পরিচালক আবুল কালাম আজাদ খান ও আলফাজ উদ্দিন কে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ মামলায় আসামি এ. টি. কে হক মিন্টু এবং আবুল কালাম আজাদ খান ব্যতীত সকলেই পলাতক রয়েছে। 

উক্ত মামলার নথি থেকে জানা যায়,আবুল খায়ের উল্লেখিত কোম্পানির একজন কেয়ারটেকার ছিলেন। বয়স্ক এবং নানাবিধ অসুস্থ থাকার কারণে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করতেন। এ কারণে আসামিরা অফিস চলাকালীন সময়ে প্রায়ই গালাগালি ও দূর ব্যবহার করতেন। আবুল খায়ের প্রতিবাদ করলে প্রায়ই মারধর পর্যন্ত করত। 

২০১৩ সালের ৫ই জানুয়ারী ঘটনার দিন দুপুর বারোটার দিকে চাঁদপুর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আসামি জাকির হোসেন ও তার ভাই থানা যুবদলের সদস্য আলমগীর হোসেন এবং অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় মোবাইল হারানোর মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল খায়েরকে মারধর শুরু করে এবং এক পর্যায়ে গলা টিপে হত্যা করে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। 
ঘটনার দুই দিন পর ৭ জানুয়ারি মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী সাফিয়া বেগম ঢাকা রামপুরা থানায় উল্লেখিত ৭ জনকে আসামী করে একটি পরিকল্পিত হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সূত্রে আরো জানা যায়, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২৮  নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় ৬ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম পাটোয়ারী জানান, ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি চলছে।


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(ঠিক আছে) #days=(20)

আমাদের ওয়েবসাইট আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। কুকি সম্পর্কে জানুন
ঠিক আছে
উপরে যান