সেবা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াতের ওয়াকআউট নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
![]() |
| রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে এখন বিরোধিতা কেন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন |
সদ্য শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একেবারে উদ্বোধনী দিনে রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্যের সময় বিরোধী শিবিরের সংসদ বয়কট করার যৌক্তিকতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চেয়েছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাথেই পরামর্শ করে একসময় অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তাহলে হঠাৎ করে আজ তাঁর বিরুদ্ধে কেন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে?
আজ ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে সংসদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণার পর গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিরোধী দলীয় প্রধান ডা. শফিকুর রহমানের একটি মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, গত ৫ এবং ৬ আগস্ট তারিখে এই একই রাষ্ট্রপতির সাথেই কিন্তু বিরোধীদের শীর্ষ নেতারা নানা বিষয়ে বৈঠক করেছিলেন। এমনকি তাঁর কাছেই সেসময়কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ পাঠ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই সময়কার সেই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকা অনেকেই বর্তমানে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সুতরাং ঠিক কী কারণে এখন খোদ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি সরাসরি তাদের কাছেই রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
গণতান্ত্রিক চর্চায় ওয়াকআউট
অবশ্য সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ওয়াকআউট বা অধিবেশন বর্জন করার বিষয়টিকে একটি খুব সাধারণ রাজনৈতিক রীতি হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করাটা একেবারেই নতুন কোনো ঘটনা নয় এবং বিরোধী দলগুলোর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
সংসদে বিরোধীদের স্লোগান ও বয়কট
উল্লেখ্য, এর আগে বিকেলের অধিবেশনে রাষ্ট্রপ্রধান যখন তার বক্তব্য শুরু করতে যাবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সংসদ কক্ষে এক চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতিকে তার লিখিত ভাষণ পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান, তখনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। 'জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না' এবং 'ফ্যাসিজমের বদলে গণতন্ত্র চাই'—এমন সব উত্তপ্ত স্লোগান দিতে দিতে তারা এক পর্যায়ে একযোগে সংসদ অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে যান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও সরকারকে অভিনন্দন
বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা কক্ষ ত্যাগ করলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের অনুপস্থিতির মাঝেই নিজের নির্ধারিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। নিজের সেই ভাষণে তিনি নিরঙ্কুশ আসন পেয়ে নতুন সরকার তৈরি করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপিকে উষ্ণ শুভেচ্ছাবার্তা জানান। পাশাপাশি জুলাই মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানানোর পাশাপাশি সংসদে একটি মজবুত বিরোধী দলের উপস্থিতির আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
রাজনীতি- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।