![]() |
| ১২ শিক্ষককে ডিঙিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ: ইসলামপুর সরকারি কলেজের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রুল |
১২ শিক্ষককে ডিঙিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ: ইসলামপুর সরকারি কলেজের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রুল
জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে জ্যেষ্ঠতা (জৈষ্ঠতা) লঙ্ঘন করে ১২ জন সিনিয়র শিক্ষককে ডিঙিয়ে এক প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কলেজের ১২ জন সিনিয়র শিক্ষককে উপেক্ষা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার এক আদেশের মাধ্যমে ভূগোল বিভাগের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) মোহাম্মদ নূরে আলম মনিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবিব রাজা গত ১৫ জুন উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন (নম্বর: ৭৬৫০/২০২৬) দায়ের করেন।
গত ৫ জুলাই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে উচ্চ আদালতের দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুলে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রভাষক মোহাম্মদ নূরে আলমকে মনোনীত করার সিদ্ধান্তটি কেন আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রুলটি শুনানির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, এই নিয়োগ সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে (ডিজি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মানিক মিয়া। রিটে শিক্ষা সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব, মাউশির মহাপরিচালক, মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-১), ইসলামপুর সরকারি কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. রুকন এবং বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরে আলমসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামপুর উপজেলার সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের বলেন, “উচ্চ আদালতের রুল জারির বিষয়টি আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বা নথিপত্র আমার কার্যালয়ে আসেনি।”
কলেজের শিক্ষকেরা জানান, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে জুনিয়র শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানোর কারণে দীর্ঘদিন ধরে কলেজের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ও একাডেমিক কার্যক্রমে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। উচ্চ আদালতের এই আদেশের পর ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।