![]() |
| জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: ২ সপ্তাহেও উদ্ধার হয়নি ১৯ লাখ টাকার মালামাল, ক্ষোভ |
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: ২ সপ্তাহেও উদ্ধার হয়নি ১৯ লাখ টাকার মালামাল, ক্ষোভ
জামালপুরে দুই বিচারকের বাসায় চুরির ঘটনায় দুই সাবেক রাজনৈতিক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক গৃহকর্মী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ১৯ লাখ টাকার মালামালের কোনো হদিস মেলাতে পারেনি পুলিশ। মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। গত ৩০ জুন বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল। রাতে ফিরে তিনি বাসার দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ, একটি হীরার আংটি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মোট মূল্য ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকা।
ঘটনার পরদিন ১ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী होकर জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের গৃহকর্মী নিলুফা (৩২) ও সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের গৃহকর্মী হাওয়া বেগম (৩০)।
পুলিশ জানায়, প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগম ও অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালত আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড চলাকালীন আসামি নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় চুরির দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ রোববার (১২ জুলাই) সাত দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের পুনরায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিরা সবাই ধরা পড়লেও কোনো মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বলেন, “স্যারদের বাসায় চুরির দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেল। আসামিরা সবাই ধরা পড়েছে এবং চুরির সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতাও জবানবন্দিতে স্পষ্ট হয়েছে। তারপরও চোরাই মালামাল উদ্ধার না হওয়া পুলিশ প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা এবং গাফিলতি। আমরা দ্রুত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা কামনা করছি।”
মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহাগ বলেন, “রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। সেগুলো বর্তমানে আমরা বিশ্লেষণ করছি। মালামাল উদ্ধারে আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে আসামিদের আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”
মালামাল উদ্ধারের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।