![]() |
| চাঁদের কোল ঘেঁষে অতি উজ্জ্বল ‘সন্ধ্যাতারা’, বিরল মহাজাগতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ আকাশপ্রেমীরা |
চাঁদের কোল ঘেঁষে অতি উজ্জ্বল ‘সন্ধ্যাতারা’, বিরল মহাজাগতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ আকাশপ্রেমীরা
পশ্চিম আকাশের বিশাল ক্যানভাসে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেখা মিলল এক বিরল ও রূপময় মহাজাগতিক দৃশ্যের। সরু চাঁদের একেবারে কাছে অত্যন্ত উজ্জ্বল এক আলোকবিন্দু যেন চাঁদের মাথায় এসে বসেছিল। খালি চোখে দেখে অনেকের মনে হতে পারে এটি বিশেষ কোনো নক্ষত্র, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এটি নক্ষত্র নয়—এটি আমাদের সৌরজগতের উজ্জ্বলতম গ্রহ ‘শুক্র’ (Venus), যা জনমানুষের কাছে ‘সন্ধ্যাতারা’ নামে পরিচিত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় চাঁদ ও শুক্রগ্রহের আকাশে এভাবে পাশাপাশি অবস্থান করাকে বলা হয় ‘চাঁদ-শুক্র সংযোগ’ (Moon-Venus Conjunction)। সোমবার সন্ধ্যায় দুই মহাজাগতিক বস্তুর কৌণিক দূরত্ব ছিল মাত্র ০.৫ ডিগ্রি বা ২৯ আর্কমিনিট, যার ফলে খালি চোখেই তাদের এত কাছাকাছি দেখা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশের আকাশেও সূর্যাস্তের পর এ দৃশ্য চমৎকারভাবে ধরা দেয়। ঢাকার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ ছিল মাত্র ১১.৫ শতাংশ আলোকিত একটি সরু বাঁকা রূপালী রেখার মতো, আর তার ঠিক পাশেই পশ্চিম আকাশে দারুণ উজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে নজর কাড়ছিল শুক্রগ্রহ।
শুক্রকে কেন ‘সন্ধ্যাতারা’ বলা হয়?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, শুক্র আসলে কোনো তারা বা নক্ষত্র নয়; এটি সূর্যের দ্বিতীয় গ্রহ। পৃথিবী থেকে রাতের আকাশে সূর্য ও চাঁদের পর সবচেয়ে উজ্জ্বল মহাজাগতিক বস্তু হলো শুক্র। সূর্যের খুব কাছের কক্ষপথে থাকার কারণে এটি সাধারণত সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে অথবা সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব আকাশে দৃশ্যমান হয়। সন্ধ্যায় দেখা গেলে একে ‘সন্ধ্যাতারা’ এবং ভোরের আকাশে দেখা গেলে ‘ভোরের তারা’ বলা হয়।
জ্যোতির্বিদরা আরও জানান, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে একই সময়ে চাঁদ শুক্রগ্রহকে সাময়িকভাবে আড়াল করে দেওয়ার (Lunar Occultation) বিরল ঘটনাও ঘটেছে। সরু বাঁকা চাঁদের সঙ্গে শুক্রের এই মায়াবী সহঅবস্থান সন্ধ্যার আকাশকে কিছুক্ষণের জন্য যেন রূপকথার মতো রহস্যময় ও মুগ্ধকর করে তোলে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।