জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ
ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করায় জেলায় বন্যা পরিসি'তির উন্নতি হচ্ছে। তবে নিম্নাঞ্চলের বাড়ী-ঘর থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় ঘরে ফিরতে পারছে না বানভাসীরা। বানভাসী পরিবার গুলোর মাঝে দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। দুর্গম চর ও দ্বীপ চর গুলোতে ত্রান সহায়তা না পৌছায় খাদ্য সংকটে পড়েছে বানভাসীরা।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস' হয়ে পড়েছে নদ-নদী বেষ্টিত রৌমারী ও রাজিবপুর ৮ ইউনিয়ন। শুধুমাত্র রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গত ৬ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। এই দুই উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস'া ভেঙ্গে পড়েছে।
জেলা প্রশাসন থেকে ৯ উপজেলার ৫৫ ইউনিয়নে দেড় লক্ষাধিক বানভাসীর জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ২লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও বিতরন শেষ হয়নি।
তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে স্বপ্ল পরিমানে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমীন জানান, ইতিমধ্যে বর্ন্যার্তদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরন প্রাশ শেষ পর্যায়ে। নতুন করে আরো ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা পর্যায়ক্রমে বিতরন করা হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে জেলার ৯ উপজেলার ৫৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত গত ৬ দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। তবে কি পরিমান জমির আমন ক্ষেত সম্পুর্ন রুপে ক্ষতি হতে পারে তা এখনও জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শওকত আলী সরকার জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কি পরিমান জমির আমন ক্ষেত সম্পুর্ন রুপে ক্ষতি হতে পারে তা নিরুপন করা হবে। এজন্য কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
স'ানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১৭ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।
