বরগুনায় দুই সন্তানের পিতার ধর্ষণে অন্তস্বত্বা কিশোরী

S M Ashraful Azom
বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচ কোড়ালিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীতে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তসত্বা হয়ে পড়েছে এক দরিদ্র কিশোরী। লোক লজ্জার ভয়ে এসব চাপিয়ে যায় তার পরিবার। এরপর প্রভাবশালী মহলের টালবাহানায় কেটে যায় দিনের পর দিন। ঘটনাটি জানাজানির এক পর্যায়ে গতকাল শনিবার তালতলী থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তস্বত্বা ওই কিশোরী। পরে তাকে তালতলী থেকে নদীপথে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে যাত্রীবাহী খেয়া নৌকায়ই তার গর্ভপাত হয়। অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে ওই কিশোরী বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।  
স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা গ্রামের দুই সন্তানের পিতা আনোয়ার শিকদার (৩০) একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ওই কিশোরীকে চার মাস আগে কৌশলে তার খালি বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর কখনও হুমকি আবার কখনও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সে। এতে সে অন্তস্বত্বা হয়ে পড়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে গুঞ্জন তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক অপবাদের মুখেও পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে স্বজনদের পরামর্শে গতকাল শনিবার সকালে এ বিষয়ে অভিযোগ করতে মেয়েটি ও তার পরিবারের সদস্যরা তালতলী থানায় যায়। তালতলী থানায় মামলা দায়েরের পর থানা থেকে ফেরার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে ওইদিন বিকেলে পায়রা নদীতেই যাত্রীবাহী খেয়া নৌকায় তার গর্ভপাত হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে ওই কিশোরী বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা বলেন, কী করমু, কোমনে  (কোথায়) যামু, নাকি বিষ খাইয়া মইরা যামু, কিছুই বোজদে আছি না বাবা। গরীব মানুষের আপন কেউ নাই।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে তালতলী থানার ওসি বাবুল আখতার বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top