মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পিরতলা পুলিশ ক্যাম্পের চাঞ্চল্যকর কনষ্টেবল আলাউদ্দীন হত্যা মামলার আসামী তাহাজ্জুল হোসেন ওরফে সোহেলকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক সোহেল কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক মন্ডলের ছেলে। গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন এ আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশ সদস্য আলাউদ্দীনের হত্যাকারী হিসেবে চিহিৃত তাহাজ্জুল হোসেন ওরফে সোহেল নিজ এলাকায় অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে বলিদাপাড়া এলাকায় পুলিশের একটি টীম অভিযান চালায়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন জানান, পুলিশ কনস্টেবল আলাউদ্দীন হত্যার সময় আসামীদের কললিস্ট চেক করে আসামী তাহাজ্জুল হোসেন ওরফে সোহেলের নাম পাওয়া যায়। চাঞ্চল্যকর পুলিশ হত্যার পর থেকেই সোহেল পলাতক ছিল। তাকে গ্রেফতারের পর গাংনী থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইতোমধ্যে সোহেল হত্যা মামলা সম্বন্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। তবে মামলার তদন্তে আরো গভীরে যাওয়ার লক্ষে এখনি সেটা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে আজকের পর থেকে মামলার মুল আসামী কারা তা পরিষ্কার হবে।
ওসি আকরাম হোসেন আরো জানান, আটক সোহেল কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মিরপুর সহ কয়েকটি থানায় মাদক ব্যবসার একাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগষ্ট রাত পৌণে ৮ টার দিকে সাহেবনগর বাকী মোড় এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মাইক্রোবাসের চেক করার সময় কনষ্টেবল আলাউদ্দীনকে মাইক্রোবাসের মধ্যে তুলে এনে হাড়াভাঙ্গা মাদ্রাসার সামনে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয় মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১০ টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই সুবীর রায়ের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠলেও সে বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার নং ২০ তাং ২৫.০৭.১৫ ইং। এছাড়া একই ঘটনায় মাদকদ্রব্য বিশেষ আইনে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।

