খুলনায় আদালতে শিশু রাকিব হত্যার স্বীকারোক্তি

S M Ashraful Azom
পৈশাচিক নির্যাতনে নিহত শিশু রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি ওমর শরীফ ওরফে শরীফ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় খুলনার মহানগর হাকিম মোঃ ফারুক ইকবালের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে শরীফ বলেন, ‘রঙয়ের দোকানের সামনে থেকে আমার চাচা মিন্টু রাকিবকে ধরে দোকানে নিয়ে আসে। এ সময় মিন্টু জিন্সের প্যান্ট খুলে রাকিবকে চেপে ধরে আর আমি তার পায়ুপথে গাড়িতে হাওয়া দেয়া কম্প্রেসারের পাইপ ঢুকিয়ে দিয়ে হাওয়া দেই।’ এতে রাকিব অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। গত সোমবার শরীফ ও  তার পাতানো চাচা মিন্টু খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত ৬ আগস্ট শরীফের মা বিউটি বেগম একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে এ মামলায় সরাসরি জড়িত তিন আসামীর মধ্যে দুজন (মা-ছেলে) ও প্রত্যক্ষদর্শী তিনজনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার এস আই কাজী মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, গত রবিবার দুপুরে শরীফ ও মিন্টুকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে খুলনা সদর থানায় আনা হয়। রাকিব হত্যাকাণ্ডের রাতে গণপিটুনির শিকার হয়ে শরীফ ও মিন্টু খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
গত ৩ আগস্ট বিকালে মোটর সাইকেলে হাওয়া দেয়ার কম্প্রেসার মেশিনের পাইপ শিশু শ্রমিক রাকিবের পায়ুপথে ঢুকিয়ে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটর সাইকেল গ্যারেজ ‘শরীফ মোটর্সের’ মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম ও সহযোগী পাতানো চাচা মিন্টু খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৬ আগস্ট তিনদিনের রিমান্ডের একদিন পর ৭ আগস্ট বিউটি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত মঙ্গলবার শরীফকে আদালতে তুললে তিনিও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামী মিন্টু খানের রিমান্ড চলছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই স্পর্শকাতর এ মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। সে অনুযায়ীই তদন্ত কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার সন্বয়কারী এ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু মামলার আসামিদের দিকে নজর দিলে হবে না, মামলাটির বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে পুলিশকে।
গত ৩ আগস্ট শিশু রাকিবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটর সাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটর্সের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং সহযোগী মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top