আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন

S M Ashraful Azom
বিশ্বায়নের এই যুগে চাকরির ক্ষেত্র যেমন দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেই সাথে নতুন নতুন মডেল আর তরুণদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ উদ্ভাবনী শক্তিকে পুঁজি করে বৈশ্বিক হচ্ছে ব্যবসার পরিসর। তরুণেরা লেখাপড়া শেষে এখন শুধু চাকরির পেছন পেছন ছুটছে না। অনেকে খুব অল্প বয়সে, কেউ লেখাপড়া শেষ করে অথবা কেউ কেউ তাদের ছাত্রাবস্থাই স্ব স্ব মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

আর এর পেছনে নিজেদের আত্মবিশ্বাসটাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে তারা। এখন কথা হলো কোথা থেকে পাওয়া যায় এই আত্মবিশ্বাস। যেটা কিনা ব্যক্তিজীবনকে করছে সমৃদ্ধ, পৌঁছে দিচ্ছে সাফল্যের দুয়ারে। ঘুমের ঘোরে রাতভর স্বপ্ন দেখলেই কি আত্মবিশ্বাস মনে দানা বাঁধে? উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পতিতে দারুণ গরিমায় বিচরণ করলেই কি আত্মবিশ্বাস মিলে?

সম্ভবত না। তবে কিভাবে অর্জন করবেন প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারটিকে? কোন উপায়ে গড়ে তুলবেন নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস? এসব বিষয়ে কথা হয় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাজী আব্দুল মান্নানের সাথে। তিনি বলেন, ‘মূলত বর্তমান সময়ে ভালো ক্যারিয়ার গড়া অনেক কঠিন হলেও অসম্ভব নয়, আর এজন্য চাই তীব্র আত্মবিশ্বাস। এই আত্মবিশ্বাসটা তখনই আসবে, যখন নিজের ফোকাসিং বিষয়টাকে ভালো মতো চর্চা করা হবে। সেটা যেকোনোভাবে যেকোনো অবস্থাতেই হতে পারে।’
 
আত্মবিশ্বাস অর্জনের ব্যাপারে মুক্তবুদ্ধি চর্চাটা খুব জরুরি। সেজন্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তো আছেই। যার যার পছন্দের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমে নিজের বিশ্বাসটাকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে পারেন।
 
ফলে মনের জোরে নতুন উদ্ভাবনী কৌশলে বিশ্বজুড়ে খুলে দেওয়া সম্ভব  অসম্ভবের বন্ধ দরজা। এর দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কথা, যিনি কেবল আত্মবিশ্বসের জোরেই মাত্র সাতাশ বছর বয়সেই প্রযুক্তি দুনিয়ার আইকনে পরিণত হয়েছেন।
 
বর্তমান দুনিয়ায় যারা সকলের কাছে জীবন্ত আদর্শ, তাদের মুখ থেকে প্রায়ই একটা কথা শোনা যায় যে, স্মার্ট তরুণরা পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে ছুটে না, বরং নিজেরা অন্যকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এ ব্যাপারে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজাটা আধুনিক দাসত্ব।’ আর এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে দরকার দৃঢ় আত্মবিশ্বাস।
 
এ যুগে ব্যবসা, শিল্প, কৃষি, অর্থনীতির প্রসারে একদিকে যেমন চাকরির বিরাট ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ হারে। সুতরাং নিজেকে যোগ্য প্রমাণের জন্য আপনাকে অন্যদের তুলনায় দক্ষ, যোগ্য, আত্মপ্রত্যয়ী এবং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। সেক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা বিষয়ে পারদর্শিতার পাশাপাশি প্রযুক্তি পণ্ডিত হওয়া চাই। যেগুলো আপনার সঠিক পেশা গ্রহণের ব্যাপারে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করবে।
 
যাই হোক, নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসটাকে কবজা করা দুরূহ হলেও নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা রাখার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারেন যে কেউ। 
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top