সোনালি আঁশে স্বাবলম্বী

S M Ashraful Azom
পাট এক সময় বাংলাদেশের প্রধান অর্ধকরী ফসল ছিল। যা কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও পাটের তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এরই মধ্যে বর্তমান সময়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহী করার জন্য পলিথিনসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে নতুনভাবে মানুষ পাট চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার পাশাপাশি পাটজাত পণ্য ব্যবহারে মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাট পণ্যের নজরকাড়া নকশা, টেকসই ও জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পাওয়ায় পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমান সময়ে ঢাকার প্রায় প্রতিটি মার্কেটে পাটজাত দ্রব্য দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি পাটজাত পণ্য দেখা যায় ঢাকার নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ, শাহবাগ এবং নিউমার্কেট, ধানম-ি প্রভৃতি মার্কেটে।পাটজাত পণ্য উৎপাদন পাটজাত পণ্য উৎপাদনে পুরুষের চেয়ে নারী বেশি ভালো করার সুযোগ রয়েছে। যেসব শিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী ঘরে বসে সময় পার করছেন, তারা সহজেই পাটজাত পণ্য উৎপাদন করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারেন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকা, লন্ডনসহ বেশ কিছু দেশে। তাছাড়া পাটজাত পণ্য উৎপাদন আরো আধুনিকায়ন করার জন্য সরকার পাটে নানান রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে বিজেএমসির সাবেক সচিব ওয়ামি জব্বার দৈনিক ইনকিলাককে বলেন, আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অগ্নিরোধক পাট উদ্ভাবন ব্যবহার করেছি, যা বর্তমান সময়েও চালু রয়েছে। এছাড়াও নার্সারি গাছের পচনশীল পাট উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা আবার নির্দিষ্ট সময়ে পচে যাবে।পাটজাত পণ্য সামগ্রীঢাকা শহরের বিভিন্ন নামিদামি মার্কেটে পাটজাত পণ্য বেশি দেখা যায়। এই বিষয়ে কথা হয় দোয়েল চত্বর সংলগ্ন পাট পণ্য ব্যবসায়ী কামালের সাথে। তিনি দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের দোকানে যেসব পাট পণ্য রয়েছে এর অধিকাংশ এসেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, টংগীবাড়ী এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, মানিকগঞ্জের, সাটুরিয়া, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা হতে। পাটপণ্য কোন শ্রেণীর মানুষ বেশি কিনে থাকে এ বিষয়ে কামাল জানান, সাধারণ শিক্ষিত নারীরা বেশি পরিমাণে পাট পণ্য কিনে থাকেন। ঢাকা শহরের মার্কেটসমূহে যে সব পাট পণ্য পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিয়াল ব্যাগ, লেডিস ব্যাগ, হাত ব্যাগ, নকশি কাঁথা, শাড়ি, কার্পেট, শাল, ওয়ালমেট, জুতা, মাদুর, পর্দার কাপড়, বিছানার চাদর, বস্তা, সুতা, কম্বল, দোলনা, মোড়া, জায়নামাজ, ফুলের তোড়া, টুপি, বাচ্চাদের খেলনা, বাজারের ব্যাগ ইত্যাদি।পড়াশোনা : বাংলাদেশের একমাত্র পাটজাত পণ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট টাঙ্গাইলে অবস্থিত। উক্ত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে পাটজাত গবেষণার ওপর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে টাঙ্গাইল পাটজাত গবেষণার ওপর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে টাঙ্গাইল ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন জুট টেকনোলজি কোর্স চালু হয়েছে। পূর্বে এসএসসি বিজ্ঞান শাখার পাসকৃতরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে এইচএসসি বিজ্ঞান শাখার ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে পারবে।দেশ-বিদেশে চাকরির সুযোগটাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা ছাত্রছাত্রীরা দেশ-বিদেশে চাকরি করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ডিপ্লোমা ইন জুট টেকনোলজি পাস শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জুট মিলে চাকরি করার বেশ সুযোগ রয়েছে। সরকারিভাবে পরিচালিত জুটমিলসমূহের পাশাপাশি বেসরকারি জুট মিলসমূহতে চাকরির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। একজন ডিপ্লোমা ইন জুট টেকনোলজিস্ট মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি মধ্যেপ্রাচ্যের দেশসমূহে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। 
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top