প্রতি ম্যাচেই রেকর্ডের হাতছানি। আর মাঠে নামলেই নতুন রেকর্ড। সাকিব আল হাসান মাঠে না নেমেও পেরুলেন এক মাইলফলক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয় পেরিয়ে দশে পা দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।
ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের সেরা অলরাউন্ডার হয়েছিলেন আগেই। এখনও টেস্টের সেরা অলরাউন্ডার সাকিবই। দেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে। প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারে অর্জনে অনন্যা হয়েছেন বার বার।
২০০৬ সালের ছয় আগস্ট এ দিনেই বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের অভিষেক ঘটে। ওয়ানডে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন মাগুরায় জন্ম নেওয়া সাকিব। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়েন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার। বল হাতে এক উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। ওই ম্যাচটিতে শাহরিয়ার নাফিসের অপরাজিত শতকে ভর করে আট উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে অভিষেক হলেও ক্রিকেটের বাকী দুই ফরমেটে ঘরের মাঠেই প্রথম খেলতে নামেন সাকিব। ২০০৬ সালেই তার টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ঘটে। প্রতিপক্ষও এক। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ২৮ নভেম্বরের ম্যাচটিতে ব্যাট হাতে ২৬ ও বল হাতে এক উইকেট নেন এ বাঁহাতি স্পিনার। পরের বছরই ভারতের বিপক্ষে সাদা পোশাকে তার আগমন ঘটে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ড্র হয়।
৪২ টেস্ট, ১৫৫ ওয়ানডে ও ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। টেস্টে ১৯টি ফিফটি ও তিনটি শতকের সাহায্যে ৩৯.৭৬ গড়ে ২,৮২৩ রান করেছেন। ওয়ানডেতে ৩৫.৩৩ গড়ে ৪,৩৮২ রান। ৩০টি অর্ধশতকের পাশাপাশি রয়েছে ছয়টি সেঞ্চুরি। আর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ২৪.০৮ গড়ে ৮৪৩ রান করেন। এ ফরমেটে তিনি পাঁচটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস উপহার দেন।
বল হাতেও দারুণ সফল সাকিব। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে তার উইকেট সংখ্যা যথাক্রমে ১৪৭, ২০১ ও ৪৫। দেশের হয়ে টেস্ট বাদে বাকি দুই ফরমেটে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। একদিনের ক্রিকেটে আর মাত্র সাত উইকেট পেলেই আব্দুর রাজ্জাকের ২০৭ উইকেটের রেকর্ড টপকে যাবেন।

