বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালিত হয়েছে। এবার প্রথম প্রহরে নয়, শেষ প্রহরে জন্মদিনের কেক কেটেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে প্রথম প্রহরে নিজ বাসায় ফুলের শুভেচ্ছা দিয়েছেন স্বজনরা। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে শীর্ষ নেতার জন্মদিন পালন করেছেন। কেক কাটাসহ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করেছেন তারা। দিবসটি উপলক্ষে চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়টি সাজানো হয়েছিল রঙ-বেরঙে। নেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল কার্যালয়ের ভেতর-বাইরে। গুলশান কার্যালয়ে রাত সোয়া ৯টায় দলের সিনিয়র নেতাদের পাশে নিয়ে ৭০ পাউন্ডের পাঁচটি বড় আকারের কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদ্যাপন করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।কেক চারটি হচ্ছে- বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি, মহানগর বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের নামে। কেক কাটার আগে নেত্রীর দীর্ঘজীবন কামনা করে মোনাজাত করা হয়। ১৯৪৫ সালের এইদিনে জন্মগ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। পৈত্রিক নিবাস ফেনীতে হলেও বাবার কর্মস্থল দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এখন তার বয়স হচ্ছে ৭০ বছর। রাত ৯টায় খালেদা জিয়া বাসা থেকে নিজের কাযার্লয়ে এসে পৌঁছালে দলের নেতাকর্মীরা দু’পাশে দাঁড়িয়ে মুর্হুর মুর্হুর করতালি দিয়ে তাদের নেত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়।গাড়ি থেকে নেমে বিএনপি চেয়ারপার্সন নিচতলায় বর্ণিল কাপড় ও নানা রঙের ফুল দিয়ে সাজানো কক্ষে প্রবেশ করেন।প্রথমে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশে নিয়ে দলের ৭০ পাউন্ডের কেকটি কাটেন খালেদা জিয়া। এরপর পর্যায়ক্রমে আরো তিনটি কেকও কাটেন তিনি।নেতৃবৃন্দ করতালি দিয়ে ‘শুভ শুভ জন্মদিন, ম্যাডামের জন্মদিন’ ‘হ্যাপি বার্থ ডে ম্যাডাম’ ইত্যাদি স্লোগানে দলের চেয়ারপার্সনকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময়ে গীতিকার মুনশী ওয়াদুদের লেখা শিল্পী মনির খান কন্ঠে বেজে উঠে ‘দেশনেত্রীর জন্মদিন, আজ তোমার জন্মদিন’ গানটি। গাটির সুরকার ছিলেন ইথুন বাবু। নিচ তলায় যখন সিনিয়র নেতাদের নিয়ে খালেদা জিয়া কেক কাটছিলেন, তখন কার্যালয়ের বাইরের সড়কে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মুর্হুর মুর্হুর করতালি দিয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়।কেক কাটার এই অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নেতা জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, আবদুল মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল হালিম, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আলম চৌধুরী, এজেডএম জাহিদ হোসেন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, মোহাম্মদ শাহজাহান, ফজলুল হক মিলন, গোলাম আকবর খন্দকার, আসাদুজ্জামান রিপন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, প্রেস উইংযের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ ছিলেন।অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আনোয়ার হোসাইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুনির হোসেন, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, মনির খান, হাসান চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, হাফেজ আবদুল মালেক, শাহ্ মো. নেছারুল হক, আকম মোজাম্মেল, আকরামুল হাসান, মামুনুর রশীদ মামুন। কক্ষে ভেতরে কেক কাটার অনুষ্ঠানের পর খালেদা জিয়া কার্যালয়ের মূল দরজার বাইরে এসে অপেক্ষামান নেতাকর্মী সমর্থকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা নেন। পরে খালেদা জিয়ার নির্দেশে কেকগুলো এতিমখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে গুলশান কার্যালয়ে সামনের সড়কের মোড় পুলিশ ও সাদা পোশাকে ব্যাপক সদস্যের উপস্থিতি ছিল। এদিকে প্রতিবছর ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে গুলশান কার্যালয়ে দলের নেতাদের নিয়ে কেক কাটলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। শুক্রবার ছুটির দিন থাকার কারণে প্রথম প্রহরে গুলশানের বাসায় ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। দিবসটির প্রথম প্রহরে সেখানে তার ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী নাসরিক সাঈদ ও কানিজ ফাতেমাসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ছিলেন।গতকাল বিকেলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের বনানীর বাসায় মহিলা দলের নেতাকর্মীরা কেক কেটে খালেদা জিয়ার ৭১তম জন্মদিন উদ্যাপন করেন। মহিলা দলের আয়োজিত খালেদা জিয়ার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সেলিমা রহমান মহিলা দলের সভানেত্রী নুরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহানগর সভানেত্রী সুলতানা আহমেদসহ কেন্দ্রীয় মহিলা নেত্রী ও সাবেক মহিলা এমপিদের নিয়ে কেক কাটেন। কেক কাটার সময়ে মহিলারা ‘শুভ শুভ জন্মদিন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন’ ম্লোগান দেয়। কেক কাটার পর বিএনপি চেয়ারপার্সনের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মুনাজাতও করেন মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। শরিক দলের জন্মদিন পালন : ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে। রাজধানীর পুরানা পল্টনের একুশে মিলনায়তনে দুপুরে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়াপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশ আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম দেশ এখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। গণতন্ত্রের লেবাসে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতার মসনদ জবর দখল করে আছে।তিনি বলেন, তাবেদার অপশক্তি জিয়া পরিবার ও জাতীয়তাবাদী শক্তি নির্মূল করতেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া স্মৃতি-বিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে এখন রাজনীতি থেকেও উচ্ছেদের চক্রান্ত করছে। তাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের চরিত্রহনন করতে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন, এমদাদুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক রহমান, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান খোকন প্রমুখ।

