প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের একটি হচ্ছে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন বলতে আর কিছু থাকে না। তিনি বলেন, যে যত বড় ক্ষমতাধরই হোক, আইনের শাসনের প্রতি যদি সম্মান না থাকে তাহলে ওই ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৭১-এ দুই বিচারপতির কথোপকথনের সিডি প্রচার নিয়ে মামলার শুনানির এক পর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
গত ২৯ জুলাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জনকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ‘সাকার পরিবারের তত্পরতা ঃ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিবন্ধের জন্য এ রুল জারি করা হয়। ওই রুল শুনানির প্রতিবেদনে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৭১-এ দুই বিচারপতির কথোপকথনের সিডি প্রচার করে। পরে আপিল বিভাগ এক আদেশে ওই সিডি আদালতে দাখিল করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক গত ১৬ আগস্ট এ সংক্রান্ত সিডি আদালতে দাখিল করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি শুনানির জন্য গতকাল আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ৭১ টিভির প্রতিবেদনের সিডি জমা দেয়ার দিনও টক-শোতে আদালতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা হয়; কিন্তু সেখানে আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোন ধরনের মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না। কোন ধরনের সমালোচনা করা হয় না। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের নজীর নেই। তিনি বলেন, কোন মামলার রায় প্রকাশের পর তা নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা হয়ে থাকে। আদালত নিয়ে কুত্সা রটানো হয় না। এই বিষয়টি তো সকলকে বুঝতে হবে। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা বিষয়টি (সিডি) পরীক্ষা করে পরবর্তীতে আদেশ দেয়া হবে।

