রাজধানীতে চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান। অভিযানের দ্বিতীয় দিন বুধবার ১২টি বাস জব্দ করে পাঠানো হয়েছে ডাম্পিংয়ে ও একটি কার্ভাডভ্যানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্স না থাকায় চারজন চালকে ৭ দিনের জেল দেয়া হয়েছে। এ দিকে, সারা দেশে ফিটনেসবিহীন যান ও লাইসেন্সবিহীন ভুয়া চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।
ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের সময় গাড়ি আটক করলে অনেক যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। অভিযান পরিচালনা করার কারণে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাও ছিল তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
বুধবার বনানী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ও কারওয়ানবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত এ অভিযান চালায়। ডাম্পিংয়ে পাঠানো বাস গুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুর পরিবহন, বলাকা পরিবহন, ভিআইপি পরিবহন, কনক পরিবহন ও আব্দুল্লাহপুর পরিবহনের বাস। হাইকোর্টের নিষাধাজ্ঞার পর রাজধানীতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক রুস্তম আলী খান ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা বলেন, আমরা আগেও বলেছি, শতভাগ আইন মেনেই গাড়ি রাস্তায় বের করতে হবে। আশাকরি এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিএমপির ভ্রাম্যমান আদালতের নিবার্হী ম্যাজিস্টেট মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, অভিযানের দ্বিতীয় দিন ফিটনেস না থাকায় ৯টি বাস জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া একটি কাভার্ডভ্যানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বাসগুলোর ফিটনেস নেই। এগুলো ঢাকার রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী। বাসগুলোর মালিকদের আগেই সতর্ক করে মামলা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তারা বাস ঠিক করেনি। তাই এবার মামলা না দিয়ে সরাসরি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা গাজীপুর রুটেই সবচেয়ে বেশী ফিটনেস বিহীন গাড়ি সংখ্যা সর্বাধিক। তিনি আরো বলেন, আমরা ব্যক্তিগত গাড়িও আটক করবো। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বে সঙ্গে দেখছি। যেসব বাস আটক করা হয় ওই সব বাসের যাত্রীদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে এবং তাদের অন্য বাসে তুলে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি সহনশীল না হওয়া পর্যন্ত ফিননেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাককে।
অপরদিকে, কারওয়ানবাজারে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বাশার এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ৪ চালককে ৭দিন করে জেল এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়াও ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদের মধ্যে কয়েকজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ৩টি ফিটনেসবিহীন গাড়ি ডাম্পিং করা হয়।
সোমবার হাইকোর্ট সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করবে না বলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে আদেশ দেন। এর পরদিন মঙ্গলবার থেকেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যৌথভাবে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
সারা দেশে নির্দেশ:
সারা দেশে ফিটনেসবিহীন যান ও লাইসেন্সবিহীন ভুয়া চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। বিআরটিএ থেকে মঙ্গলবার সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

