বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর এক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধীরে ধীরে মাথাপিছু ঋণ ও সুদ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। তাছাড়া আন্তঃপ্রজন্ম ঋণের বোঝাও বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট অপরিশোধিত অভ্যন্তরীণ ঋণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট অপরিশোধিত বৈদেশিক ঋণ সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়েছে। মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) অনুপাতে মোট অপরিশোধিত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ এখনো বেশি, যদিও সামপ্রতিক সময়ে এ হার কমার প্রবণতা দেখা গেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখায় যে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রতি বছর বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ১২৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ছিল, যার মধ্যে ১০৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আসল এবং ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সুদ হিসাবে পরিশোধ করা হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি’১৫ পর্যন্ত মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৭৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। যার মধ্যে সুদ ও আসল উভয়ই রয়েছে। বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে সরকারের ঋণ বাড়ছে। বাড়ছে অনুন্নয়ন ব্যয়। যা উত্পাদনশীল খাতের বরাদ্দকে সংকুচিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে উত্পাদন সক্ষমতা হ্রাস করতে পারে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মত প্রকাশ করে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মে-জুলাই সময়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে দেখিয়ে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ আশঙ্কা প্রকাশ করে যে অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের আধিক্য অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে।
এদিকে ২০০১-০২ অর্থবছরে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৫ দশমিক ৫২ মার্কিন ডলার। যা ২০০৬-০৭, ২০১০-১১ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ১৩৬ দশমিক ৪৫, ১৫৭ দশমিক ৭ এবং ১৭৩ দশমিক ৫৩ ডলার ছিল। আর মাথাপিছু অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ২০০১-০২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪৩৩ টাকা ছিল। যা ২০০৬-০৭, ২০১০-১১, ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ৫ হাজার ৫৩৩, ৯ হাজার ২৯২, ১২ হাজার ৯৬৮ ও ১৩ হাজার ৯৮৯ টাকায় দাঁড়ায়। অভ্যন্তরীণ মাথাপিছু ঋণ বৃদ্ধির এ প্রবণতা বিবেচনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মাথাপিছু অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১৬ হাজার টাকায় দাঁড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকিং খাতের তুলনায় ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে বেশি ঋণ করেছে। যদিও আগের বছরগুলোতে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাতের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বেশি ছিল।

