জামালপুরের সরিষাবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে জহুরা বেগম নামে এক নারী গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সরিষাবাড়ি রেলস্টেশনের দক্ষিণ পার্শ্বের আউটার সিগন্যাল এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
জহুরা বেগমের মা তাহেরা বেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান দরিদ্র জহুরা ঢাকার বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো। সোমবার রাতের আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ট্রেনে সে বাড়ি ফিরছিল। ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার পর ৩ বার মোবাইল ফোনে তার অবস্থান জানায় মাকে। সর্বশেষ সরিষাবাড়ি স্টেশনে পৌছে সে মাকে তার অবস্থান জানিয়ে বলে তার সাথে ট্রেনে এক লোকের পরিচয় হয়েছে সে তাকে বাড়ি পৌছে দিবে। সরিষাবাড়ি স্টেশনের পরের স্টেশন তারাকান্দিতে তার নামার কথা ছিল। কিন্ত সরিষাবাড়ি স্টেশন ছাড়ার পর জহুরা আর মায়ের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাহেরা বেওয়া তার মেয়ের নাম্বারে ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি। আজ সকালে এলাকাবাসী আউটার সিগন্যাল এলাকায় তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সরিষাবাড়ি স্টেশনের পর বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুগামী আন্ত:নগর যমুনা ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা একেবারে কমে যায়। অনেকটা নির্জন এই ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ধর্ষণ চেষ্টা বা ছিনতাইয়ে বাধা দেয়ায় শ্বাসরোধ করে জহুরাকে হত্যা করে ট্রেনে থেকে তার লাশ ফেলে দেয়া হতে পারে বলে তার পরিবারের ধারণা।
সরিষাবাড়ি রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ এস আই সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন জহুরার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর পাঠানো হচ্ছে।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন লাশ উদ্ধারের বিষয় স্বীকার বলেছেন, তাড়াহুড়া করে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে অথবা ঘুমঘোরে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে জহুরার মৃত্যু হতে পারে।
