দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে পণ্য বৈচিত্রকরণ ও রফতানি বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে চীন ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।
চীনের সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী গাও হুচেন গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্কালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে জানান, চীনের মন্ত্রী বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণকে তার দেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ সমন্বয় করতে একটি কমিটি গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।
গাও হুচেন বলেন, বাংলাদেশ খুবই মানসম্পন্ন পাটজাত পণ্য উত্পাদন করে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ থেকে চীনে পাটজাত পণ্যের রফতানি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশীপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণে দু’দেশের মধ্যে একটি বিনিময় নোট স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ খুবই মূল্য দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ক্রয় সহযোগিতাসহ দু’দেশের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম)-এর মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতে চীনের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ভূমি বরাদ্দ করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যৌথ উদ্যোগে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, তাঁর সরকার স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ২২টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক নির্মিত হচ্ছে
বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কসহ পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ সড়কটি নির্মাণ হলে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। একইসঙ্গে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক (বালুখালী-ঘুনধুম) বর্ডার রোড’ শীর্ষক প্রকল্প প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, মোট ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। কক্সবাজারের উখিয়া এবং বান্দরবান জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় এ সড়ক তৈরি করা হবে। সভায় ৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৪টি এবং ১টি সংশোধিত।

