ফার্গুসনে জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ গ্রেফতার শতাধিক

S M Ashraful Azom
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্গুসনে জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ ক্ষুব্ধ মানুষ। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন। তবে গতকাল পুলিশ কোনো গুলি চালায়নি। বিক্ষোভের ঘটনায় ১৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।
 
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউন নিহত হওয়ার বর্ষপূর্তিতে সহিংসতার পর সেন্ট লুইস শহর ও আশপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুরুতর আহত আন্দোলনকর্মী তাইরোন হ্যারিস নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ।
 
২০১৪ সালের ৯ আগস্ট ফার্গুসনে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন ১৮ বছর বয়সী কিশোর মাইকেল ব্রাউন। ব্রাউন নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসনের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হলেও জুরি তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।
 
রবিবার ব্রাউনের নিহত হওয়ার বর্ষপূর্তিতে সারাদিন শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হলেও গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে ১৮ বছর বয়সী তরুণ হ্যারিস আহত হন। এরপর সেখানে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হ্যারিস পুলিশের গুলিতে একবছর আগে নিহত কিশোর মাইকেল ব্রাউনের বন্ধু। পুলিশ বলছে, সমাবেশ থেকে প্রথম পুলিশের দিকে গুলি ছুঁড়েছিল এমন ছয় ব্যক্তির একজন হ্যারিস। তবে হ্যারিসের বাবার দাবি, তার ছেলে নিরস্ত্র ছিল এবং পুলিশ হামলা চালালে সে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাচ্ছিল।
 
এদিকে আহত তাইরোন হ্যারিসকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় পাবলিক প্রসিকিউটররা। এসবের মধ্যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলা, সশস্ত্র অবস্থায় অপরাধ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গাড়িতে গুলিবর্ষণ অন্যতম। আড়াই লাখ ডলারের বিনিময়ে তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
ব্রাউন নিহত হওয়ার দিনটিতে ব্রাউন ও অন্যান নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের হত্যার প্রতিবাদে একদিনের আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন সেন্ট লুইসের নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
 
নতুন সহিংসতা ঠেকানোর জন্য জরুরি অবস্থা চলার মধ্যেই সেন্ট লুইসের ফার্গুসন এলাকার প্রতিবাদকারীরা সোমবার সন্ধ্যায় ফের জড়ো হন। ব্রাউন যেখানে নিহত হয়েছিলেন, সেই রাস্তার পাশে জড়ো হয়ে প্রতিবাদকারীরা পতাকা নাড়িয়ে, ড্রাম বাজিয়ে পুলিশবিরোধী শ্লোগান দেন।
 
সেন্ট লুইস কাউন্টি এক্সিকিউটিভ স্টিভ স্টেঙ্গার জানিয়েছেন, জনগণ ও সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ফার্গুসনের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তারা নিজেদের ব্যবসা সুরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
 
এদিন সেন্ট লুইসের আদালতের প্রবেশপথে বসানো পথরোধক ভেঙে ফেলায় ও প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় পুলিশ মোট ৫৭ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে মিসৌরির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর ফেডারেল আইনজীবীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারী কর্নেল ওয়েস্ট রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠকরা।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top