গার্মেন্টসের কাঁচামাল আমদানির চাহিদা কমে গেছে

S M Ashraful Azom
গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির জন্য কাঁচামাল আমদানির চাহিদা কমে গেছে। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে ৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আমদানির চাহিদা বা ইউডি (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন) নেয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন—বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানির চাহিদা কমেছে। এর ফল দেখা যাবে আগামী দুই বা তিন মাস পর। অর্থাত্ ওই সময়ে গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি কমার বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।
 
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সর্বশেষ গত জুলাইয়ে ইউডি নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৭১টি। পূর্ববর্তী বছরের জুলাইয়ে ইউডি ছিল ১ হাজার ৯৫৮টি। অর্থাত্ পূর্ববর্তী বছরের মাসের তুলনায় ইউডি কমেছে ২৮৭টি বা ১৫ শতাংশ।
 
প্রতিটি অর্ডারের বিপরীতে একটি করে ইউডি নেয়া হয়। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এক একটি ইউডির বিপরীতে উত্পাদিত পণ্যের সংখ্যায় তারতম্য থাকে। অর্থাত্ এক একটি ইউডির অধীনে ১ লাখ পিসের অর্ডার, ৫০ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ২ লাখ পিস গার্মেন্টস পণ্যের অর্ডারও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ইউডি কমলেও প্রকৃত অর্থে রপ্তানি কমে যাবে এটি এখনই বলা যাচ্ছে না। বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, ইউডি কমায় অর্ডার কমছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হলেও প্রকৃত অর্থেই অর্ডার কমছে কি না তা পরিস্কার হতে আরো দুই বা তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।
 
অবশ্য সংগঠনের অপর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম মনে করছেন, ইউডি কমে যাওয়া রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ারই বহিঃপ্রকাশ। এ যুক্তির সপক্ষে তিনি সামপ্রতিক অর্ডার কমার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন।
 
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত জুলাইয়ে ইউডি ১ হাজার ৬৭০টি হলেও এর আগের মাস জুনে ছিল ২ হাজার ৭১টি, মে মাসে ২ হাজার ৬৪৮টি, এপ্রিলে ২ হাজার ৭০৪টি, মার্চে ২ হাজার ৪১৫, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ৫২৫ ও জানুয়ারিতে ২ হাজার ২৯৪টি। এর মধ্যে গত ছয় মাসের মধ্যে চার মাসেই পূর্বের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইউডি বেড়েছে। আর দুই মাসে কমেছে।
 
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গার্মেন্টস পণ্যের বড় বাজার ইউরোপে রপ্তানি খুব একটা বাড়ছে না। উল্টো সেখানে দর কমে যাচ্ছে। ওই সব বাজারে সামপ্রতিক সময়ে অন্তত ৫ শতাংশ হারে দর কমেছে। অন্যদিকে গার্মেন্টস খাতের অগ্নি ও ভবনের নিরাপত্তা সামগ্রীর জন্য বড় অঙ্কের খরচ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস পণ্যের দাম বা অর্ডার কমে যাওয়া এ খাতের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করবে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশই যায় ইউরোপের দেশগুলোতে। এর বাইরে অন্যান্য দেশেও রপ্তানি কাঙ্খিত হারে বাড়ছে না। 
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top