শাহাবুদ্দিনের শিল্পকর্মে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

S M Ashraful Azom
মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ আমাদের দেশের গর্ব। চিত্রকর্মে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সম্মিলন ঘটিয়ে নতুন ধরনের একটি ধারার সৃষ্টি করেছেন তিনি যা তাকে সারা বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপীয় চিত্র প্রেমিকদের মাঝে অনন্য করে তুলেছে। চিত্রকর্মে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের এই চিত্রশিল্পীকে গত বছর ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে ফরাসি সরকার। বিরল এই সম্মানে ভূষিত করায় প্রখ্যাত এই শিল্পীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)।
 
প্রতিষ্ঠানটির পথচলার ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয়েছে ১০ দিনের শিল্পকর্মের বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও মুজিব নগরের সাবেক এমপি অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সভাপতিত্ব করেন ইউডার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক   মুজিব খান। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউডার চারুকলা অনুষদের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক শাহজাহান আহমেদ বিকাশ। অনুষ্ঠানের  সূচনাতেই ইউডার শিক্ষার্থী শিল্পীরা পরিবেশন করে লোকজ নৃত্য।
 
প্রধান অতিথি আনিসুজ্জামান বলেন, ‘১৯৭১ সালে শিল্পীসত্তার সঙ্গে শাহাবুদ্দিন আহমেদের মুক্তিযোদ্ধা সত্তা এক হয়ে গিয়েছিল। এত বছর পরও তিনি সেই সত্তাকে লালন করে যাচ্ছেন। তার শিল্পকর্মের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।’
 
সংবর্ধনা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বক্তৃতা করেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বক্তব্যের শুরুতেই শিল্পী যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান। তুলে ধরেন স্বদেশের প্রতি অনুরাগের কথা এবং একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরত্বগাথাসহ নানা বিষয়। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই, সেখানে গর্ব করে বলি ‘জয় বাংলা’। আমাদের রয়েছে যুদ্ধ বিজয়ের ইতিহাস। আমরাই একমাত্র জাতি যাদের রয়েছে বিজয় দিবস। আমার ছবি আঁকার মূল শক্তিই হচ্ছে এই বিজয়। ওইটাই আমার ইতিহাস। যারা একাত্তরে শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন। তাদের অবদান বৃথা যায়নি। তাদের রক্তের ঋণে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।’ নিজের শিল্পী জীবন নিয়ে তিনি বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমি   আজকের এই অবস্থানে এসেছি। তবে আমি নিজেকে কখনোই বড় শিল্পী মনে করি না।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top