জোয়ারের সময় রূপসা ও ভৈরব নদের পানি শহর রক্ষা বাঁধ উপচে খুলনা মহানগরীতে ঢুকলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। গত দু’মাস ধরে দিনে দুইবার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানের রাস্তাঘাট, দোকানপাট, অফিস-আদালত, বাসাবাড়িসহ অধিকাংশ এলাকা। নগরীর মূল ড্রেন দিয়ে পানি ঢুকেও তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। জোয়ারে পানির চাপ আরো বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিবি) অর্থায়নে সেকেন্ডারি টাউন ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড প্রোটেকশন প্রকল্পের আওতায় খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে নগরীর আলুতলা পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী শহর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০০০ সালের জুনে সে কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই বাঁধটির বিভিন্ন স্থান ধসে পড়ে। নদী তীর থেকে অধিকাংশ স্থানেই ব্লক উঠে গেছে। নিচু হয়ে গেছে শহরের অনেক স্থানের বাঁধ। এরমধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রূপসা স্ট্র্যান্ড থেকে শিপইয়ার্ড পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। গত দুই মাস ধরে পশ্চিম রূপসার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় পাউবোর বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে নগরীতে। তবে গত ২ আগস্ট থেকে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন দু’বেলা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকা, রূপসা স্ট্র্যান্ড রোড, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা ট্রাফিক মোড়, জিন্নাহপাড়া, দক্ষিণ টুটপাড়া, চানমারী, গ্লাক্সো মোড়, দোলখোলা রোড ও জোড়াকল বাজারের একাংশ। এছাড়াও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরা, শিপইয়ার্ডসহ নিচু এলাকা। পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার জোয়ারে দিনের অধিকাংশ সময় পানিতে তলিয়ে থাকে এসব এলাকা।

