ইন্টারনেটের আবির্ভাবের পর থেকেই
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে আসছে ইন্টারনেট। আধুনিক প্রযুক্তির এই উপকরণটির বহুল প্রসার একটি
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের একটি সূচক
হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে উন্নত দেশগুলোর বাইরে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোও তাই
ইন্টারনেটের বহুল প্রসারের দিকে মনোযোগী হয়ে উঠছে। ইন্টারনেটের এই সুবিধাকে
যাতে বিশ্বব্যাপী সকলেই ব্যবহার করতে পারেন তার জন্যও কাজ করে যাচ্ছে
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তারই ধারাবাহিকতায় এবারে শীর্ষস্থানীয় সব
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে শীর্ষ সেলিব্রেটিরাও একত্রিত হয়ে ২০২০
সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার
করেছে।
ক্ষুধা
ও দারিদ্র্য থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে কর্মরত সংগঠন ওয়ান-এর সাথে ফেসবুকের
প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের যৌথ উদ্যোগ ‘কানেক্ট দ্য ওয়ার্ল্ড’
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই এই অঙ্গীকার করা হয়েছে। আর এতে সংযুক্ত হয়েছেন
মাইক্রোসফটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা
জিমি ওয়েলস থেকে শুরু করে হলিউড তারকা শার্লিজ থেরন, সংগীত তারকা বোনোর মতো
সব বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব।
সম্মিলিত
এই উদ্যোগের অঙ্গীকারে বলা হয়, ‘ইন্টারনেটের বিভিন্ন টুলস এবং জ্ঞান
ব্যবহারের সুযোগ যখন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তখন তাদের জন্য নিজেদের
জীবনমান উন্নয়নের সুযোগও উন্মুক্ত হবে। আর ইন্টারনেট কোনো ব্যক্তিগত
সম্পত্তি নয়, এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। তাই সকলেরই অধিকার রয়েছে এতে
সংযুক্ত হওয়ার।’ গত শনিবার ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ জাতিসংঘে
প্রদত্ত ভাষণে ইন্টারনেটে বিশ্বের সব মানুষের সংযুক্তি নিশ্চিত করাকে
অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রতি।
তার
একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রতি দশজন মানুষ ইন্টারনেটে সংযুক্ত
হলে একজন দারিদ্র্য সীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। ইন্টারনেটে সংযুক্ত নয় এমন
চারশ কোটি মানুষকে ইন্টারনেটে যুক্ত করতে পারলে তাই আসছে সময়গুলোতে
বিশ্বের সামনে এক অবারিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। ইন্টারনেটে
সংযুক্তি তাই অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।’
অন্যদিকে
ওয়ান-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেমি ড্রুমন্ড ইন্টারনেটকে ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও
মর্যাদা’র জন্য প্রভাবক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের
সকলকে ইন্টারনেটে যুক্ত করতে এই যৌথ প্রয়াসের সাফল্যের বিষয়েও আশাবাদী এর
সাথে সংশ্লিষ্টরা।

