বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ

S M Ashraful Azom
মিচেল জনসনকে বিশ্রাম দেয়া হলেও বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত মিচেল স্টার্ক। গত কয়েক সিরিজ ধরেই খানিকটা ম্লান জনসনের জায়গায় অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেয়া স্টার্ক নিজেই জানিয়েছেন একথা। সে লক্ষ্যে যথাযথভাবে শরীরের যত্নও নিচ্ছেন তিনি। এর আগে গত বুধবার ফেয়ারফ্যাক্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পারফরমেন্স ম্যানেজার প্যাট হাওয়ার্ড জানান, গ্রীষ্মের দীর্ঘ সূচির কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে দুই টেস্টের সিরিজে জনসন এবং তরুণ পেসার জশ হ্যাজেলউডকে বিশ্রাম দেয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।
বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা পালন করেন স্টার্ক। ওয়ানডের সবচেয়ে বড় আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন এই বাহাতি। এরপর অ্যাশেজ এবং কাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজেও আছেন স্টার্ক। অন্যদিকে, জনসন-হ্যাজেলউড ওভালে পঞ্চম অ্যাশেজ টেস্টের পরেই উড়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়া।
টানা খেলার ক্লান্তি কাটাতে বিশ্রামের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্টার্ক পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বোর্ড যদি না চায় সেক্ষেত্রে এমন কোন ইচ্ছাই নেই তার। ২৫ বছর বয়সী এই পেসার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু ভাবছিই না। অতীতেও আমাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল এবং এ নিয়ে হতাশও হতে হয়েছে। তাই এখন আমি প্রতিটি ম্যাচ খেলতেই প্রস্তুত। আমার আপাতত নজর কালকের (গতকাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে) ম্যাচের দিকে।’
আসন্ন গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দুটি সিরিজে ছয় টেস্ট খেলবে অজিরা। এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ফেব্রুয়ারিতে দুই টেস্ট খেলে শেষ হবে টেস্ট মৌসুম। এরপর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে কয়েকটি টি-টোয়েন্টিও খেলবে অজিরা।
দীর্ঘ এই সূচি সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত হলেও স্টার্ক অবিচল তার সিদ্ধান্তেই, ‘আগামী মার্চ পর্যন্ত একটানা খেলে যেতে হবে আমাদের। এই সময়ে আগের মতোই কাজ করবো আমি। সেটা হচ্ছে শরীরের দিকে সতর্ক নজর রাখা। নিজেকে সুস্থ রাখতে যেটা প্রয়োজন সেটাই করার চেষ্টা করবো আমি।’
অন্যদিকে, আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে তাদের কাজের চাপ বিবেচনা করেই গত নয় মাসে টেস্ট ও ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখা জনসন এবং হ্যাজেলউডকে বিশ্রামে রাখা হচ্ছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
প্রতিবেদনে প্যাট হাওয়ার্ডের ফেয়ারফ্যাক্স মিডিয়াকে দেয়া বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে আগামী কিছুদিনের মধ্যে নির্বাচকদের মিলিত হবার সম্ভাবনা নেই। (তার আগে) আমাদের ফাস্ট বোলারদের ঠিকমত পরিচালনা করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করতে হবে। তবে সেটা কেবলমাত্র বাংলাদেশ সফরের জন্য নয়। পুরো মৌসুমে আমাদের দশটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে, এটাও আলোচনার বিষয় হবে।’
দুই পেসারের উপর বেশ চাপ পড়ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দুই পেসার জনসন এবং হ্যাজেলউডের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ছে। পুরো মৌসুমে তাদের কাছ থেকে সেরাটা পেতে হলে তাদেরকে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। দুই খেলোয়াড়ের কেউই অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগে ভাল প্রস্তুতি নিতে পারেনি এবং বিষয়টি আমাদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।’ বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিন পরই গ্যাবায় পাঁচ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু করবে। পাশাপাশি সময়ের মধ্যে ২৭ অক্টোবর শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া শেফিল্ড শিল্ড টুর্নামেন্ট।
হ্যাজেলউড ও জনসনের অনুপস্থিতিতে টেস্ট দরজা খুলে যাচ্ছে পিটার সিডলের।
কেবল সিডল নন, অসি দলে ফিরতে মরিয়া প্যাট কামিন্স অথবা জেমস প্যাটিনসনও দলে পুনরায় ডাক পেতে পারেন।
উপমহাদেশের কন্ডিশন বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া সেরা একাদশে দুই জন স্পিনারকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সেক্ষেত্রে নাথান লিঁয়র সঙ্গে দলে জায়গা পেতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফওয়াদ আহমেদ, এ্যাস্টন আগার অথবা স্টিভ ও’কেফিকে লড়াই করতে হতে পারে। দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে চলতি মাসের ২৮ তারিখ ঢাকায় পা রাখবে অস্ট্রেলিয়া দল। ফতুল্লায় একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের পর নয় অক্টোবর থেকে প্রথম টেস্ট এবং মিরপুরে ১৭ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে সফরকারিরা।
-ওয়েবসাইট অবলম্বনে

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top